ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। এ নিয়ে অস্বস্তিতেও দলের হাইকমান্ড। নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ হলেও কাউন্সিলর পদে সেই বিধান নেই। এরপরও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বৃহস্পতিবার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল। শেষ দিনে অনেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও বিদ্রোহীর সংখ্যা কমেনি। এর আগে বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকরা বিদ্রোহীদের চিঠি দিয়ে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা বলেছিলেন।

অনেকে মনে করছেন, আগের নির্বাচনগুলোয় আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দলীয় নির্দেশের বাইরে গিয়ে এবারও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন অনেকে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের ভাষ্য, জনগণ চায় বলেই তারা প্রার্থিতা করছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। যারা আছে তারা দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়াবে।

উত্তর সিটির ৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন পেয়েছেন জিনাত আলী মাদবর। এই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর আবদুর রউফ নান্নু। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী জুয়েল রানা। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সমর্থন পেয়েছেন সালাউদ্দিন রবিন। বিদ্রোহী হিসেবে আছেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিও।

দক্ষিণ সিটির ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় সমর্থন দেওয়া হয়েছে মাহমুদুল হাসানকে। সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শহিদুল ইসলাম। ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে হাবিবুর রহমান হাসুকে দল সমর্থন দিয়েছে। এখানে বিদ্রোহী আতিকুর রহমান তোতা মিয়া, সালাউদ্দিন আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম। ৭৩ নম্বরে আমিনুল ইসলাম চৌধুরী উজ্জল, ৭৪ নম্বরে আজিজুল মেম্বর এবং ৭৫ নম্বরে আতাবর রহমান বিদ্রোহী হিসেবে থাকছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব এসএম মান্নান কচি বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তাদের আমরা বুঝিয়েছি। অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।