সারাদেশে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশির ভাগ বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতি বছর ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা এখন পলিথিন ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরি করছেন। কম সময়ে স্বাস্থ্যবান ও ভালো বীজ পাওয়ায় পদ্ধতিটি চাষিদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে। গত মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫৯ হাজার ৯৭৯ হেক্টর জমিতে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এক কৃষক বলেন, ৫ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করব। প্রচণ্ড শীতের কারণে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল তাই পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিয়েছি। বর্তমানে চারার অবস্থা কিছুটা ভালো।

নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বর মাসে কৃষকরা বাড়ির পাশে খাল-বিল-ডোবা ও নদীর ধারে বীজতলা তৈরি করেন। কিন্তু প্রতি বছর ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষকরা পড়েন বেকায়দায়। তখন বাইরে থেকে বীজ সংগ্রহ করতে হয় তাদের। এ অবস্থায় পলিথিন ঢাকা দিয়ে উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার কারণে ধানের চারার অবস্থা ভালো থাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে এ পদ্ধতি। যারা আগে বীজতলায় পলিথিন ব্যবহার করেননি তারাও অন্যদের দেখে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে জেলায় যেসব বীজতলা তৈরি করা হয়েছে তার অর্ধেকের বেশি পলিথিন দিয়ে ঢাকা। বীজ গজানোর পর রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে পলিথিনের ঢাকা তুলে ফেলতে হয়। মাঝে মাঝে পানি সেচ দিতে হয়। পলিথিন ঢাকা দিয়ে তৈরি বীজতলা শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশায় নষ্ট হয় না এবং সময়মতো ক্ষেতে লাগানো যায়। এ ধানের উৎপাদনও তুলনামূলক বেশি।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আফতাব হোসেন ঠাকুরগাঁও প্রতিদিনকে বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। তাই এ এলাকার কৃষকদের পলিথিনের ঢাকা দিয়ে বীজতলা তৈরির পরামর্শ দিয়ে আসছি। তারা সেভাবে বীজতলা তৈরি করে লাভবান হচ্ছে। আশা করি এবারও বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

গৌতম চন্দ্র বর্মন
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি