গাজীপুরে ফরম ফিলাপ না করেও ১০ শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর নামে এবারের এসএসসি পরীক্ষার এডমিট কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। মো. সাঈদ আহমেদ নামের ওই শিক্ষার্থী জেলা শহরের রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।

রাণী বিলাসমনি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) শাহীনা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ২০১৮ সালে ৯ম শ্রেনীতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মো. সাঈদ আহমেদের রেজিস্ট্রেশন হয়। ৯ম শ্রেনীতে তার ক্লাশ রুল ছিল ৫৯। কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় সে পরবর্তী বছরও (২০১৯ সাল) ৯ম শ্রেণীতেই থেকে যায়। ওই বছর (২০১৯ সালে) বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে উত্তীর্ণ হয় এবং এ বছর সে ১০ম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। ১০ম শ্রেণীতে (বিজ্ঞান বিভাগ) তার ক্লাশ রুল হলো ৫১। কিন্তু ২০১৯ সালের নবেম্বরে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরমফিলাপের তথ্য কম্পিউটারে ইনপুট দেয়ার সময় তালিকায় ভুলক্রমে তার (সাঈদ আহমেদ) নামও বোর্ডে চলে যায়। তার নামে ওই বছরের ১৩ নবেম্বর ব্যাংকে টাকাও জমা দেয়া হয়। ফলে পরীক্ষার ফরম ফিলাপ না করেও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী হিসেবে তার এডমিট কার্ডসহ ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থীর এডমিট কার্ড ইস্যু হয়ে স্কুলে চলে আসে। তবে এডমিট কার্ডটি ওই শিক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয়নি।

তিনি জানান, ঘটনাটি নজরে আসার পর ওই কাজে জড়িত স্কুলের সহকারি শিক্ষক (ইংরেজী) মোজাম্মেল হক মোল্লাকে ওই ফরম ফিলাপের টাকা ভতর্’কি দিতে হয়েছে এবং তাকে শ্রেনী শিক্ষকের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাঈদের এক বন্ধু জানায়, আমাদের এডমিটের সঙ্গে সাঈদের এডমিট কার্ডটি দেখার পর সাঈদকে অবগত করা হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে সাঈদ আমাদেরকে জানায়, আমি তো এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপই করিনি। তবে কিভাবে আমার নামে ওই এডমিট ইস্যু হলো তা জানা নেই।

স্কুলের সহকারি শিক্ষক (ইংরেজী) মোজাম্মেল হক মোল্লা জানান, ইনপুট দেয়ার সময় তিনি স্কুলে ছিলেন না। তবে এরজন্য ২১০০টাকা ভর্তূকি দিতে হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এবং ওই স্কুলের ভর্তি কমিটির সভাপতি এসএম তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার নলেজে নেই, খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনা সঠিক হলে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।