বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের প্রকোপে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ লাখ ছুঁই ছুঁই। যেখানে প্রাণহানি ৬০ হাজার পেরিয়েছে। আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল পর্যন্ত এ তথ্য দিয়েছে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার। যার অধিংশই ইউরোপী ও আমেরিকান নাগরিক। অবস্থা আরও ভয়বাহতার দিকে যেতে পারে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার হানায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এতে করে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬০ হাজার ১৬২ জনে। অপরদিকে, গত একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রায় ৮২ হাজারের মানুষ ভাইরাসটির কবলে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশ সময় শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত সংক্রমিতের সংখ্যা বেড়ে ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তা প্রকোট আকার ধারণ করেছে। উৎপত্তিস্থলের বাহিরে ১৩ গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ১১ মার্চ বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

বর্তমানে ভাইরাসটিতে সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় সবার ওপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রাণহানির সংখ্যা এগিয়ে ইউরোপীয় ইতালি। এরপরই রয়েছেন স্পেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে বর্তমানে সংক্রমিতের সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ৪৬৭ জনে ঠেকেছে। মারা গেছেন আরও হাজারের বেশি নাগরিক। যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৪০২ জনে।

যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী নিউইয়র্ক রাজ্য। গত একদিনে সেখানে ৫শ’র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এতে করে শুধু এই রাজ্যেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গোটা দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ রোগীই এ অঙ্গরাজ্যের। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭৬ জনে।

এরপর নিউ জার্সিতে আক্রান্ত প্রায় ৩০ হাজার। মারা গেছেন ৬৪৬ জন। দেশটিতে সংকটাবস্থা পার করছে প্রবাসীরাও। করোনায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। যাদের অধিকাংশেই নিউ ইয়র্কে থাকতেন।

করোনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির দেশ ইতালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৮১ তে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ জনে পৌঁছেছে।

করোনা সংক্রমণে স্পেনে মৃতের সংখ্যা ১১ হাজার ছাড়িয়েছে। যেখানে ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছন ৬৬১। আক্রান্ত বেড়ে এক লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ জন।

এরপরই রয়েছে ফ্রান্স। ইউরোপের দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৩৩৮ আক্রান্তের বিপরীতে মারা গেছেন ৬ হাজার ৫০৭ জন।

মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী প্রজাতান্ত্রিক দেশ ইরানে এখন পর্যন্ত সংক্রমিতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে প্রাণ গেছে ৩ হাজার ২৯৪ জনের।

এছাড়া যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ৩৮ হাজার ১৬৮ জন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ৬০৫ জন।

এতোদিন আক্রান্তে পিছিয়ে থাকলেও এশিয়া-ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের দেশ তুরস্কে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২১ হাজার নাগরিক আক্রান্ত। যেখানে প্রাণ গেছে ৪২৫ জনের।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি ভারত ও পাকিস্তানে। মোদির দেশে ২১ দিনের লকডাউনের মধ্যেই এক লাফে ৬০১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। যেখানে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৭২ জন।

পিছিয়ে নেই ইমরান খানের পাকিস্তানেও। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৬৮৬ জন, প্রাণহানি ঘটেছে ৪০ জনের।

আর বাংলাদেশে নতুন করে ৯ জনের শরীরে ভাইরাসটির সন্ধান পাওয়া গেছে। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর এ তথ্য জানিয়েছে।

এ নিয়ে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। মারা গেছেন আরও ২ জন। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। আর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩০।