গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সোমবার এক গৃহবধূ (২৫) মারা গেছেন। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, করোনা আক্রান্তের লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া ওই গৃহবধূ গত প্রায় একসপ্তাহ যাবত শ্বাসকষ্ট, জ্বর, গলা ও শরীর ব্যাথায় ভুগছিলেন। তবে চিকিৎসকদের দাবী, ওই গৃহবধূ প্রায় তিনবছর যাবত শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং নিয়মিত কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও খন্দকার পাড়া এলাকার দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ (২৫) সপ্তাহ খানেক আগে বাড়ির পাশে ছাগল চড়ানোর পর জ্বরে ভুগতে থাকেন। বাড়ির লোকজন জ্বিন ভুতের কুদৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ করে কবিরাজী চিকিৎসা করান। গত তিনদিন যাবত জ্বরের পাশাপাশি তার গলা ও শরীর ব্যাথা শুরু হয়। ব্যাথার যন্ত্রণায় তাকে চিৎকার ও কান্নাকাটি করতে শুনেছে প্রতিবেশীরা। তিনি স্বামী সন্তানসহ বাড়ির দ্বিতল ভবনের দোতলায় থাকতেন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা নিহতের করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের দাবী করেছেন।

এ ব্যাপারে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুস ছালাম সরকার জানান, নিহতের তিন বছর আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট ছিল, কিন্তু কোনো জ্বর বা অন্যান্য লক্ষণ ছিল না। তিনি হাসপাতাল থেকে নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু শেষদিকে তিনি হাসপাতালে যোগাযোগ করেননি। করোনা সংক্রান্ত কোনো লক্ষণ ওই নারীর ছিল না। বেঁেচ থাকাকালীন তার সাক্ষাতকারও নিয়েছি আমরা। তারপরও প্রতিবেশীদের দাবীর প্রেক্ষিতে নিহতের স্বামীর করোনা সংক্রান্ত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। ওই বাড়িসহ পাড়ার কয়েকটি বাড়ি লকডাউনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কাপসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমত আরা বলেন, নিহতের করোনা সংক্রান্ত কোনো লক্ষণ ছিল না বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে হৃদরোগের সমস্যাও ছিল। নিহতের দাফনের জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পালনে পুলিশ রয়েছে ঘটনাস্থলে। নিহতের স্বামীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। যদি করোনা পজিটিভ পাওয়া যায় তাহলে ওই বাড়িসহ আশপাশের বাড়িগুলো লকডাউন করা হবে।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে ১০ মার্চ হতে সোমবার পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠাণিক ও হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন মোট ২৬৩৮জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ৩৩জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫৫৬জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন। জেলায় এপর্যন্ত দু’জনের শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়েছে। তাদেরকে আইসোলেশনের জন্য রাজধানী উত্তরার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়।