গাজীপুরে শ্রীপুর উপজেলার পাঁচ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান প্রাপ্তি এটাই প্রথম ঘটনা। এতে উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাস জানান, শ্রীপুরের কাওরাইদ ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার চায়না কোম্পানির এক ব্যাটারি কারখানায় চাকুরি করেন। প্রথমে ওই ব্যাক্তি এবং পরে তার পরিবারের তিনজনের মধ্যে ঠান্ডা ও জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শনিবার (১১এপ্রিল) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। সোমবার জানানো হয় তাদের দেহে করোনা সংক্রমন পজেটিভ।

প্রণয় ভ’ষণ জানান, কয়েকদিন আগে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার গ্রামের প্রভিটা ফিড মিলের এক কর্মকর্তা কর্মস্থলে ফিরে আসেন। শ্রীপুরে আসার কয়েকদিন পরই তিনি সর্দি, ঠান্ডা ও গলা চুলকানিতে আক্রান্ত হন। খবর পেয়ে শনিবার (১১এপ্রিল) স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা গিয়ে তার দেহের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআর’এ পাঠায়। পরীক্ষা শেষে সোমবার জানানো হয় তার দেহে করোনা ভাইরাস পজেটিভ।

শনিবার শ্রীপুর পৌর এলাকার উজিলাব গ্রামে করোনা লক্ষণ নিয়ে এক ব্যক্তি (৬০) মারা যান। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠান হয়। সোমবার তার দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক এএসএম ফাতেহ্ আকরাম জানান, চায়না কারখানার ওই ব্যাক্তি নমুনা দেয়ার পর পালিয়ে বাড়ি থেকে গিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। পরে ঢাকা থেকে ওই ব্যক্তির দেহে করোনা ভাইরাস পজেটিভ হয়েছে বলে খবর জানার পর স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারেন তিনি করোনার তথ্য গোপন করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার প্রণয় ভূষণ দাস আরও জানান, আক্রান্তদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়। তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হবে। এছাড়াও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পাঠানো হবে। আপাততঃ আক্রান্তদের তিনটি বাড়ি লক ডাউন করা হয়েছে।