করোনাভাইরাস সনাক্তে চীন থেকে কীট, পিপিইসহ চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী আনছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ বলা হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০ জে পরিবহন বিমানের মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চীন হতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক দ্রব্যাদি সংগ্রহের জন্য আগামীকাল শুক্রবার বিমান বাহিনীর ১৬ জন এয়ার ক্রু চীনের উদ্দেশ্যে চট্রগ্রামের আন্তর্জাতিক শাহ আমানত বিমানবন্দর ত্যাগ করবেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর মো. জাহিদুর রহমান, জিডি (পি) দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য যে, সি-১৩০জে বিমানটি চীন যাত্রার উদ্দেশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বঙ্গবন্ধু, ঢাকা হতে আজ বৃহস্পতিবার চট্রগ্রাম এসে পৌঁছায়। মিশন সুসম্পন্ন করার জন্য বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় সরকার কর্তৃক প্রকাশিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী চীন সরকারের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে চীন থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় উপকরন সংগ্রহের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, কিটস, এন-৯৫ মাস্ক, সার্জিক্যাল মাস্ক, ইলেট্রিক থার্মোমিটার, মেডিক্যাল সেফটি গ্লাস, প্রটেক্টিভ গ্লাভস, গগলস এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা (পিপিই)সহ অন্যান্য চিকিৎসা সহায়ক উপকরণ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী সংগ্রহের নিমিত্তে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান চীনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ কর্তৃক ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার এর আওতায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধকল্পে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী জরুরি বিমান পরিবহন এবং মেডিক্যাল ইভাকোয়েশন সহায়তা প্রদান করছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় গণচীন সরকারের প্রসংশনীয় উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাব রোধে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অকৃত্রিম সহায়তার জন্য বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ চীনের সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কিছু শুভেচ্ছা সামগ্রী যেমন হস্ত ও কুটির শিল্প জাতীয় উপহার সামগ্রী বিমান বাহিনীর উক্ত পরিবহন বিমানের মাধ্যমে চীনে প্রেরণ করা হয়।

এখানে আরও উল্লেখ্য যে, একই বিমানে মেট্রোপলিটন চেম্বার অফ কমার্স এর উদ্যোগে বাংলাদেশের করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থাসমূহকে প্রদানের নিমিত্তে গণচীন হতে সংগৃহীত আরোকিছু স্বাস্থ্যসেবা সহায়ক দ্রব্যাদি (পিপিই, মাস্ক এবং স্যানিটাইজার ইত্যাদি) চীন থেকে আনা হবে।

উল্লেখিত চিকিৎসা সামগ্রীসহ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সি-১৩০জে বিমানটি আগামী ১৮-এপ্রিল তারিখে দেশে প্রত্যাবর্তন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।