লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে প্রশাসন। উল্লাস খন্দকার নামে একজনের কোন চাল নিয়ে যেতে ট্রলি চালককে ডেকে আনার ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান এলাকাবাসী।

রোববার মধ্যরাতে ঐ উপজেলার সির্ন্দুনা লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে গোডাউন মালিক সাখাওয়াত হোসেন (সঞ্জু) এর ভাড়াটিয়া শাহাজাহান আলীর গুদাম থেকে এ চাউল উদ্ধার করা হয়।
চালের বস্তা খাদ্য অধিদপ্তরের ” শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ” নেট ওজন ৩০ কেজি লেখা থাকলেও অপরদিকে ধরলা সুপার স্বর্না চাউল নেট ওজন ২৫ কেজি লেখা রয়েছে।

অটো রাইচ মিল থেকে চাল গুলো শাহাজাহান আলী কিনেছে বলে দাবি করলেও ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, চালের বস্তায় সরকারি সীল রয়েছে এবং তদন্ত করলে এর প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার মধ্যরাতে ঐ এলাকায় শাহজাহানের গোডাউনের সামনে একটি ট্রলি এসে দাঁড়ায়। এতে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ দেখা দিলে তারা গোডাউনটি ঘিরে রেখে হাতীবান্ধা ইউএনও সামিউল আমিনকে খবর দেন। খবর পেয়ে ইউএনও সামিউল আমিন পুলিশকে সাথে নিয়ে গোডাউনের তালা খুলে ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। পরে ট্রলি চালক দুখু মিয়ার ট্রলিতে করে ঐ চাল গুলো থানায় নিয়ে যাওয়া যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই বলেন, উল্লাসকে আটক করলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। তিনি কোন চাল নিয়ে যেতে ট্রলি চালককে ডেকে এনেছিলেন আর সে চাল কোথায় আছে এ রহস্য বের করা উচিৎ। তানাহলে প্রকৃত রহস্য লোকচক্ষুর অন্তরালেই রয়ে যাবে।

ট্রলি চালক দুখু মিয়া (৩০) জানান, উত্তর সিন্দুর্না এলাকার আলতাফ হোসেন খন্দকারের ছেলে উল্লাস খন্দকার (৩০) তাকে ডেকে ঐ গুদাম থেকে কিছু চালের বস্তা পার্শ্ববর্তী কালীগঞ্জ উপজেলার ভুল্লারহাট এলাকায় নিয়ে যেতে বলে। ঘটনাস্থলে আসার পর তাকে চোরাই রাস্তা দিয়ে চাল নিয়ে যেতে বললে সেগুলো সরকারি চাল বলে তার সন্দেহ হয়। ফলে সে ঐ চাল পরিববন করতে অস্বীকৃতি জানান। এনিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি চলার এক পর্যায়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে উল্লাস খন্দকার সেখান থেকে সটকে পড়ে। অতঃপর স্থানীয়রা দুখু মিয়া ও ৩জন লেবারকে ট্রলিসহ আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে উল্লাস খন্দকারের সাথে দুখু মিয়ার কথোপকথনের অডিও টেপ পুলিশ সাংবাদিকসহ উপস্থিত সবাইকে শোনান।

উল্লাস খন্দকারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, আমি দুখু মিয়া নাকে কাউকে চিনিনা এবং এবিষয়ে কিছুই জানিনা। ট্রলি চালক দুখু মিয়ার সাথে তার কথোপকথনে রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চেয়ে তাকে ঘটনাস্থলে আসতে বললে তিনি আসতেছি বলে আর আসেনি। এমনকি প্রশাসনসহ অনেকেই উল্লাস খন্দকারকে আসতে বলেও তিনি কারো কথা রাখেনি। এমনকি পুলিশ উল্লাস খন্দকারের বাসায় গিয়ে তাকে পাননি।

হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) নাজির হোসেন বলেন, ২৫ কেজি ওজনের ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। এবিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে। তদন্তপুর্ব প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপর এক প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ট্রলির চালকসহ লেবারদের জিজ্ঞাবাদের জন্য ট্রলি চালকসহ লেবারদের নিয়ে আসা হয়েছিল।

হাতীবান্ধার ইউএনও সামিউল আমিন বলেন, চালগুলো নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হলে রাতে ১২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। উক্ত এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য বের হবে।