মাননীয় পার্বত্য বিষয় মন্ত্রী মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা। বান্দরবান পার্বত্য জেলায় অবস্থিত বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলা সহ মোট ৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৬জন শিক্ষক দীর্ঘ দিন থেকে বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০০ হাজার কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই স্কুলগুলি বেসরকারি ভাবে পরিচালিত হওয়ায় তারা বেতন থেকে শুরু করে সরকারি বা বেসরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাননা। এই শিক্ষিক মানুষ গড়ার কারিগর সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে টিওশনি, কৃষি কাজ, ভাড়ায় চালিত বাইক, মেয়েরা সেলাই কাজ, ছোট খাটু হস্ত শিল্পসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত থেকে কোন রকম সংসারের খরচ চালিয়ে যেত। এখন করোনাভাইরাসের কারনে তাদের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকায়, তদের পরিবারে এখন হাহাকার বিরাজ করছে। চোখ লজ্জার কারণে কারো কাছে কিছু চাইতেও পারতেছেনা। তাই তারা সরকারি বা বিত্তবানদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

বান্দরবান সদরের মশাবনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হাই মোটোফোনে জানান, আমি টিওশনি ও চাষাবাদ করে কোন রকম পরিবারে খরচ সামাল দিতাম আজ প্রায় মাস থেকে খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

বান্দরবানের হেব্রন পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, টিউশনি ও মোটর বাইক চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাতাম এখন তাও বন্ধ হওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে আমাদের।

বান্দরবান জেলা বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি সৈয়দা শাহনাজ পারভীন জানান, আমাদের বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাইনা , এই দূর্যোগ মুহুর্তে এখনো পর্যন্ত আমাদের শিক্ষকরা সরকারি বা বেসরকারি কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় আমাদের পরিবারের হাহাকার বিরাজ করছে।

এমতাবস্থায় চট্রগ্রাম পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়, বান্দরবান জেলা পরিষদের সুযোগ্য চেয়ারম্যান, বান্দরবান জেলা প্রশাসক, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক এবং লামা উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি/সাধারন সম্পাদক সহ সকল সমাজের শীর্ষ স্হানীয় নেতৃবৃন্দ মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সূত্রঃ-বান্দরবান সদরের ৫টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। লামা উপজেলায় ৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্বপন কর্মকার,লামা,বান্দরবান প্রতিনিধি