স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর গানম্যানের (পুলিশের এএসআই) গুলিতে আহত অপর বন্ধু মো. মহিন উদ্দিনও (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতদিন পর শুক্রবার ভোর রাতে মারা গেছেন। এ নিয়ে একই ঘটনায় ওই গানম্যানের গুলিতে তার বন্ধু দু’জন নিহত হলেন। নিহত মহিন উদ্দিন কালিয়াকৈর উপজেলার সীমান্তবর্তী টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার আইজগানা কারিগরপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে।

কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার ও স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হকের গানম্যানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের কুতুবদিয়া গ্রামের নারায়ণ কুমারের ছেলে জেলা পুলিশের এসবি’র এএসআই কিশোর কুমার মন্ডল। এএসআই কিশোর কুমার মাঝে মধ্যেই বন্ধু মহিন উদ্দিন ও শহিদুল ইসলাম শহিদের সঙ্গে একত্রে আড্ডা দিত এবং মাদক সেবন করতো। গত কিছুদিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে মহিন উদ্দিনের পরকিয়া থাকার সন্দেহে কিশোরের সঙ্গে তার স্ত্রীর দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। ওই কলহের জেরে সম্প্রতি ঢাকার বাসা থেকে বাপের বাড়ি চলে যান কিশোরের স্ত্রী। এতে ক্ষিপ্ত হয় কিশোর কুমার। এর জেরে মহিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১৬ এপ্রিল রাতে গাঁজা সেবন ও আড্ডা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে তাকে স্থানীয় কুতুবদিয়া এলাকার লায়ন হাবিবের একটি পতিত জমিতে আসতে বলে কিশোর। রাতে কিশোরের জন্য বন্ধু শহিদকে নিয়ে মহিন ওই নির্ধারিত স্থানে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। রাত পৌণে ১০টার দিকে কিশোর কুমার একটি মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসে। এসময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগে নিজ পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় এএসআই কিশোর। এতে বুকের ডান পাশে একটি গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ ঘটনাস্থলেই নিহত এবং পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মহিন উদ্দিন আহত হয়। নিহত শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৫) টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার আইজগানা কারিগরপাড়া এলাকার আব্দুস সবুরের ছেলে। এলাকাবাসী আহত মহিনকে উদ্ধার করে সাভারস্থ এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাতদিন পর শুক্রবার ভোর রাত ৩টার দিকে মারা যান মহিন। এঘটনার পরদিন ১৭ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে কিশোরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরদিন পুলিশ ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকার একটি বাড়ি থেকে ওই গানম্যান এএসআই কিশোর কুমার মন্ডলকে পিস্তল ও ৬রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালিয়াকৈর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, ১৮এপ্রিল আদালতে তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত বন্ধ থাকায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।