করোনা ভাইরাসের কারনে ধানের রাজ্য নওগাঁয় বিভিন্ন বিভিন্ন জেলা থেকে ধানকাটা শ্রমিক আনতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে চাঁপায়নবাবগজ্ঞ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম,পাবনা, লালমনিরহাটসহ বিভিন্নজেলা থেকে প্রায় ৯ হাজার শ্রমিক পুলিশের সহযোগিতায় ট্রাকযোগে নওগাঁ এসেছেন।
তাদের জ্বর সহ স্বাস্থ্য পরীক্ষাশেষে বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হারুনুর রশিদ। যারা বাইরে থেকে ধান কাটতে আসছেন তাদের প্রত্যেককে খাদ্যমন্ত্রীরদেয়া ১৮০ টি ননটাচ থার্মোমিটার দিয়ে জ্বরসহ স্বাস্থ্যের পরীক্ষা নিয়ে আমরা তাদের সামাজিক দুরত্বের বিষয়ে অবহিত করার পাশাপাশি তাদের থাকার জন্য আলাদা জায়গা এবং খাবাবেরর ব্যবস্থা নিয়েই বিভিন্ন উপজেলায় ধান কাটতে পাঠানো হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক হারুনুর রশিদ বলেন, গত রবিবার পর্যন্ত জেলায় বিভিন্ন জেলা থেকে ৬ হাজার ৯৫০ জন শ্রমিক এসেছেন। এ ছাড়া আরো শ্রমিক নিয়ে আসতে আমাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের ৬৫টি হারভেষ্টিন মেশিন মেশিন দিয়েও ধান কাটা শুরু হয়েছে। জেলায় ধান কাটা মাড়াইয়ে কোন সমস্যা হবেনা।খুব দ্রুতই বাইরের জেলা থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে আসা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলায় এ বছর ১ রাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে ইনিবোরো চাষ করা হয়েছে। এতে ধান উৎপাদন হবে ১১ লাখ মেট্রিক টন। এসব ধান কাটা মাড়াইয়ে প্রয়োজন হবে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক।আমরা স্থানীয় শ্রমিকদের ধান কাটার জন্য উৎসাহিত করছি। তা ছাড়া কম্বাইল মেশিন দিয়েওধান কাটা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলার বাইরে থেকে শ্রমিক আনা হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ধান কাটা শ্রমিকদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, চিনি, গুঁড়, চিঁড়া, সাবান, তেল খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় অন্যান্যের সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।