করোনাভাইরাস থেকে রেহাই পেতে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ ও আবিষ্কারের কথা বলেছেন। এসব ওষুধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত যুক্তরাষ্ট্রের রেমডেসিভির। এবার করোনা সারাতে এ ওষুধটির সক্ষমতার ‘সুস্পষ্ট’ প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জিলেড ফার্মাসিউটিক্যাল উদ্ভাবিত এ ‍ওষুধটি প্রয়োগে করোনা উপসর্গ ১৫ দিন থেকে ১১ দিনে নেমে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিশ্চিত হলে এটা একটা ‘দুর্দান্ত ফলাফল’ হবে, কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা রোগ প্রতিরোধে ‘ম্যাজিক বুলেট’ নয়।

করোনায় জিলেড ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের দামও বেড়ে গেছে। গতকাল বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আগের দিন মঙ্গলবারের চেয়ে পাঁচ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বুধবার জিলেডের প্রতিটি শেয়ার ৪৩ দশমিক ১৪ ডলারে বিক্রি হয়েছে যার ফলে এক বছরে ২৭ শতাংশ দর বেড়েছে। রেমডেসিভির মূলত ইবোলা ভাইরাসের চিকিৎসায় আবিষ্কার করা হয়েছিল। এটি মানুষের শরীরে কোষ প্রতিস্থাপনে ভাইরাসের জন্য দরকারি এনজাইমকে আক্রমণের মাধ্যমে কাজ করে। এর ফলে ভাইরাস তার কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (এনআইএআইডি) পরিচালিত এই পরীক্ষায় এক হাজার ৬৩ জন রোগী অংশ নেয়। এদের কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধ এবং অন্যদের প্লাসেবো (স্বান্ত্বনা ওষুধ) প্রয়োগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. অ্যাণ্থনি ফাউচি বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষ করে দেখা যায়, রোগ সারানো সময় কমাতে রেমডিসিভিরের সুস্পষ্ট, উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার ফল প্রমাণ করেছে যে একটি ওষুধ এই ভাইরাসটিকে আটকাতে পারে এবং আমাদের রোগীদের চিকিৎসা করার ক্ষমতার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।’ তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ওষুধটির প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়। রেমডেসিভির পাওয়া রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল ৮ শতাংশ এবং প্লাসেবো রোগীদের মধ্যে মৃত্যুহার ছিল ১১ শতাংশ। তবে এই ফলাফল পরিসংখ্যানগত দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ নয়। এই তফাৎ প্রকৃত কিনা সেটা বৈজ্ঞানিকরা বলতে পারেননি।

আরেকটি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, ওষুধগুলো কী তাদেরই প্রয়োগ করা হয়েছে যারা এমনিতেই সেরে উঠতেন।

মেডিকেল বিষয়ক জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রেমডেসিভির নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষার ফল এমন সময় এলো, যখন চীনে একই ওষুধ পরীক্ষা করে অকার্যকর প্রমাণ হয়েছে। তবে সেই পরীক্ষাটি অসম্পূর্ণ ছিল। কারণ উহানে লকডাউন সফল হওয়ায় চিকিৎসকরা এক পর্যায়ে রোগীই পাননি। আর কোভিড-১৯ চিকিৎসার ক্ষেত্রে রেমডেসিভির যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বিভাগের অনুমোদন পাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য পরীক্ষাধীনে থাকা অন্য ওষুধগুলোর মধ্যে ম্যালেরিয়া ও এইচআইভির কিছু ওষুধ রয়েছে, যেগুলো ভাইরাসকে আক্রমণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্থিতিশীল করতে পারে। ভাইরাসপ্রতিরোধী ওষুধগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং রোগ প্রতিরোধক ওষুধ পরবর্তী পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়।