করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের দাফনে এগিয়ে আসা দেশ-বিদেশে আলোচিত কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। এর আগে তার স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে রয়েছেন। কাউন্সিলর খোরশেদ কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, শনিবার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়েছি। এতে আমার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে আছি। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেব। সবাই আমার সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি জানান, আমি আক্রান্ত হলেও আমার সব কার্যক্রম চলবে। আমার টিম সব সময় সক্রিয় থাকবে, আমার ফোনও চালু থাকবে। আমি যতদিন বেঁচে আছি করোনা যুদ্ধ থেকে এক বিন্দুও নড়বো না। আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ করেন এবং আগের মতো মানুষের সেবা করতে পারি আল্লাহ যেন সেই তৌফিক দান করেন।আমার জন্য আমার আল্লাহই যথেষ্ট। আমি আল্লাহর ইচ্ছায় করোনা পজিটিভ হয়েছি। তাই আগামী ৪ দিন আমি স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও আমাদের দাফন, টেলিমেডিসিন, প্লাজমা সংগ্রহ, সবজি বিতরণ, মধ্যবিত্তের জন্য ভর্তূকি মূল্যে খাবার বিক্রি ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। আর শুক্রবার (২৯ মে) পর্যন্ত ৬১টি মরদেহ দাফন করেছেন বলে তিনি জানান।

গত ৮ এপ্রিল শহরের জামতলা এলাকায় এমন নাম আফতাবউদ্দিন (৬০)নামে বৃদ্ধের লাশ পড়েছিল বাড়িতে। মৃত্যুর পর লাশ ফেলে পরিবারের লোকজন অন্যত্র চলে যায়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন একজন। এই ওয়ার্ডেরই কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। মৃত্যুভয়কে আলিঙ্গন করে মৃতের লাশ তুলে নেন কাঁধে। মকাসদাইর কবরস্থানে নিয়ে গোসল দেওয়ার পর তিন সহযোগীকে নিয়ে জানাযা পড়েন। এরপর নিজেরাই কবর খুঁড়ে দাফন করেন।

শুধু আফতাবউদ্দিন নয়, নিজ ওয়ার্ডে এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত এবং উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এমন ৬১ জনকে দাফন করেছেন তিনি। সনাতন ধর্মের মারা যাওয়া কয়েকজনের মুখাগ্নীও করেছেন নিজহাতে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসা এই জনপ্রতিনিধি ইতিমধ্যে ‘করোনা বীর’ উপাধী পেয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন মানবতার ফেরিওয়ালা।

করোনার আগ্রাসনের শুরু থেকেই মানুষকে শুধু সচেতন করেই খান্ত হননি তিনি। নিজ উদ্যোগে স্ত্রী-সন্তান, স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে রাতের পর রাত জেগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করেছেন, বিলি করেছেন এবং এর কৌশল অন্যদের শিখিয়েছেন। নিজ ওয়ার্ডের অনেক জায়গায় মানুষের জন্য হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছেন। খাবার নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

এরই মধ্যে ওয়ার্ডবাসীকে কমমুল্যে খাদ্যদ্রব্য বিতরণ, সরকারী ও নিজস্ব সহায়তার পাশাপাশি করোনায় সুস্থ হওয়াদের প্লাজমা সংগ্রহেও কাজ করছিলেন এই করোনা বীর। এ ছাড়া টিম খোরশেদেভ উদ্যোগে মেডিকেল টিমও ওয়ার্ডবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে আসছে।

সস্তা প্রচার কিংবা লোক দেখানোর জন্য নয়, নিজের প্রাণের তাগিদ, জনগণের কাছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি আর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই এসব কাজ নিজ হাতে করছেন বলে এর আগে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।