রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন’। গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় রাজশাহী রেল স্টেশনে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

এর আগে বিকাল ৪টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনটি রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনও রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের কাছে উপহার হিসেবে এই ট্রেনে আম পাঠিয়েছেন। ট্রেনটির উদ্বোধনের সময় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ, জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আব্দুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে রাজশাহী সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘উৎপাদনকারীরা যাতে ভালো দাম পান এবং ঢাকাবাসী যাতে ভালো আম খেতে পারেন, সেজন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আম ছাড়াও সব ধরনের শাকসবজি, ফলমূল, ডিমসহ কৃষিজাত পণ্য ঢাকা স্বল্প খরচে নিয়ে যেতে পারবেন কৃষকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করে আসছে। এই ট্রেনের চাহিদা বজায় থাকলে আম মৌসুম ছাড়াও স্থায়ীভাবে চলাচল করার ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রথম দিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১ হাজার কেজি, রাজশাহীর কাঁকনহাট থেকে ৪০০ কেজি, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২ হাজার ৬৯৫ কেজি এবং চারঘাটের সরদহ স্টেশন থেকে ৫০০ কেজি আম উঠেছে ট্রেনে।

বিকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেনটি ছাড়ার উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ, নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী ও জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আম সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ নিয়ে গত ২০ মে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আম পরিবহনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ট্রেন চলবে। এর আগে করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আম, লিচু ও অন্যান্য মৌসুমি ফল বিপণন এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ বিষয়ে গত ১৬ মে ভিডিও কনফারেন্সে চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। সেদিনই ট্রেনে আম পরিবহনের কথা ওঠে।

এর পর রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী ট্রেনে আম পরিবহনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে কখনো ট্রেনে এভাবে আম ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। ট্রেনে শুধু আমই নয়, রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য পার্সেলও পরিবহন করা যাবে। করোনা পরিস্থিতিতে অনেক ট্রেন এবং ইঞ্জিন পড়ে থাকায় এই ট্রেন চালু করা সম্ভব হলো। তবে আমের মৌসুম শেষ হলে এই ট্রেনটি আর চলবে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে যখন ঢাকা যাবে তখন ট্রেনটির নাম হবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-২’। আর ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফেরার পথে নাম হবে ‘ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন-১’। ট্রেনটি সপ্তাহে প্রতিদিন চলাচল করবে। প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে বিকাল ৪টায় ছেড়ে আসবে। রাজশাহী পৌঁছবে ৫টা ২০ মিনিটে। এখানে ৩০ মিনিট থেমে ৫টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করবে। এর পর ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছবে রাত ১টায়। ঢাকা থেকে ট্রেনটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে আসবে। রাজশাহী পৌঁছবে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে। এখানে ২০ মিনিট থেমে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। পৌঁছবে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। ট্রেনটিতে মোট ছয়টি ওয়াগন আছে। প্রতিটি ওয়াগনে ৪৫ হাজার কেজি আম নেওয়া যাবে।