করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও দুই চিকিৎসক। তারা হলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) এর পেডিয়াট্রিক সার্জারির অধ্যাপক ডা. গাজী জহিরুল হাসান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের (এনআইসিভিডি) কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদ মনোয়ার।

শুক্রবার (১২ জুন)ভোররাত দেড়টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. গাজী জহিরুল হাসান। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এনআইসিভিডির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডা. মাহমুদ মনোয়ারের মৃত্যু হয়।

বিএসএমএমইউ-এর পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও গাজী জহিরুলের সহকর্মী সোহেলী আলম বলেন, গাজী জহিরুল করোনা রোগীদের সেবা দিতেন। করোনার উপসর্গ ধরা পড়লে ডা. গাজী জহিরুল যখন বাসায় আইসোলেশনে ছিলেন। তখন তার প্রথম করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্বিতীয় পরীক্ষা করানো হয়। তখন তার করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে গাজী জহিরুল হাসানের কোভিড-১৯ ধরা পড়ে। অবস্থার অবনতি হলে গত ৫ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অক্সিজেন সেচুরেশন কমে যাচ্ছিল। এ কারণে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

অধ্যাপক জহিরুলের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তিনি একজন দক্ষ চিকিৎসক ছিলেন। চিকিৎসা শিক্ষায়ও তার অনেক অবদান ছিল। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। গাজী জহিরুল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সপ্তদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে ২৯ জন চিকিৎসক মারা গেছেন। এ ছাড়া পাঁচজন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে গত ৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলার পর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৫২ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৪৯ জন।