নওগাঁর মহাদেবপুরে করোনা ভয় উপেক্ষা করে কুরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। সপ্তাহে দুইদিন শনিবার এবং বুধবার উপজেলার সদর ও মাতাজী হাটে কুরবানীর পশুর হাট বসছে। পশুর হাট গুলোতে একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র জাল টাকা ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিগত বছর গুলোতে পশুর হাটে জাল টাকা সনাক্ত করনে স্ক্যানিং মেশিন বসানো হলেও এ বছর প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। এছাড়াও হাট গুলোতে পকেট টানা পাটির উপদ্রব বেড়েছে কয়েকগুন। উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার ডা. এস এম খুরসিদ আলম জানান, উপজেলার ১০ ইউনিয়নে ২’শ ৮৭টি গরুর খামার ও ৪’শ ২৬টি ছাগলের খামার রয়েছে। এসব খামারে কুরবানী উপলক্ষ্যে ৬ হাজার ৯’শ ৬৫টি গরু এবং ৫ হাজার ২’শ ৭৪টি ছাগল প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলার পশুর হাট গুলোতে নিয়ে আসা খামারের বড় গরুর চাহিদা এবং ক্রেতার সংখ্যা নেই বললেই চলে। গরু খামারী সাজু আহম্মেদ এবং ডা. নাহিদ আহম্মেদ বলেন কুরবানী উপলক্ষে বিগত বছর গুলোর মতো এবারো তারা দেশী এবং বিদেশী জাতের গরু স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরিচর্যার মাধ্যমে বড় করেছেন। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী আকার ধারন করা করোনা ভাইরাসের প্রভাবে খামারের বড় গরুর বেচা-কেনায় ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়েছে। খামারীরা বলছেন ক্রেতাদের মধ্যে বড় গরু কেনার আগ্রহ কমে যাওয়ায় এবার এক লাখ টাকার বড় গরুর দাম করছে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার। এ কারনে গরু খামারিদের ব্যাপক লোকশান গুনতে হবে। অপর দিকে কুরবানীর পশুর হাট গুলোতে গৃপালিত ছোট এবং মাঝারী সাইজের গরুর চাহিদা রয়েছে ব্যপক। ক্রেতাদের চাহিদা মতো ছোট এবং মাঝারী পশুর দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। কুরবানীর ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে গরু-ছাগল ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে পা ফেলার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে উপজেলার পশুর হাট গুলোতে। তবে স্বাস্থ্য বিধির তোয়াক্কা না করে উপজেলার কুরবানির হাট গুলোতে গরু-ছাগল ক্রেতা-বিক্রেতার উপচে পড়া ভীড় রীতিমত সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির উদাসীনতায় স্থানীয় হাট বাজার গুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলার প্রবনতা ব্যপক বিস্তার ঘটেছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের মতে হাটে-বাজারে স্বাস্থ্য বিধি মেনে না চলার ফলে কুরবানী ঈদের আগে ও পরে এ উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোতে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হবার সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মিজানুর রহমান বলেন, হাট গুলোতে ক্রেতা বিক্রেতা নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি রয়েছে।