নীলফামারীতে অন্তঃসত্বা গৃহবধু মাহবুবা হোসেন বর্ষা (২০)কে হত্যা মামলার প্রধান আসামি স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার(৮‌ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।।

এর আগে দেশ ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় সোমবার রাত ৯টার দিকে যশোর জেলা শহরের রূপদিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৩ আগাস্ট রাত ১১টার দিকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে নীলফামারী সদর থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাবুল হোসেন বাদী হয়ে ২৫ আগাস্ট রাতে নীলফামারী সদর থানায় বর্ষার স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারকে প্রধান আসামি করে চার জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে বর্ষার স্বামীসহ অন্যান্য আসামিরা আত্মগোপন করেন।

পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের কড়লা বেচাটারী গ্রামের মৃত খায়রুল ইসলামের ছেলে তাওহিদ ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় জেলা সদরের পঞ্চপুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নীলফামারী পৌরসভার পূর্ব কুখাপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেনের মেয়ে মাহবুবা হোসেন বর্ষার (১৯)।বিয়ের পর থেকে ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন বর্ষার উপর বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতো। এরই মধ্যে গৃহবধূ মাহবুবা হোসেন ৬ মাসের অন্তঃসত্বা হয়ে পড়েন। গত ঈদুল আযহার পর থেকে যৌতুকের টাকার দাবিতে বর্ষার উপর নির্যাতনের মাত্রাও বৃদ্ধি করে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন।গত ২৩ আগস্ট পরিকল্পিতভাবে বর্ষাকে হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে,এম আজমিরুজ্জামান বলেন, ঘটনা এবং মামলার পর থেকে প্রধান আসামিসহ অন্যান্য আসামিরা আত্নগোপন করেন। পরে মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি ওই গৃহবধূর স্বামী তাওহিদ ইসলাম সিজারকে গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়।ওই মামলায় পলাতক থাকা বাকি তিন আসামিকেও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত চলছে।

মহিনুল ইসলাম সুজন,ক্রাইম রিপোর্টার নীলফামারী।