গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১এ বন্দি হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদের সঙ্গে এক নারীর একান্তে অবস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় এবার ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রতœা রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে রবিবার প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ নিয়ে কারা বিধি ভঙ্গ করে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার ওই ঘটনায় মোট ৫জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদেরকে কারা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, অর্থ কেলেঙ্কারীর মামলায় হলমার্কের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমদ গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ বন্দি রয়েছেন। তিনি হলমার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মাহমুদের ভায়রা। গত ৬ জানুয়ারি দুপুরে সালোয়ার কামিজ পড়া এক নারী বাইরে থেকে কারাগারে আসেন। এসময় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রতœা রায় ও ডেপুটি জেলার সাকলাইন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে অপর দুই যুবকের সঙ্গে ওই নারী কারাগারের কর্মকর্তাদের কক্ষ এলাকায় প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। ওই নারী সেখানে প্রবেশ করার পর অফিস থেকে বেরিয়ে যান ডেপুটি জেলার সাকলায়েন। আনুমানিক ১০ মিনিট পর কারাগারে বন্দি তুষার আহমদ ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। কারা বিধি ভঙ্গ করে তারা ওই কক্ষে প্রায় ৪৫ মিনিট একান্তে অবস্থান করেন। কারাগারের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত এ ভিডিও চিত্রটি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত হলে তা ভাইরাল হয়ে উঠে। এদিকে, করোনাকালীন কারাগারের বন্দিদের সঙ্গে কোনো দর্শনার্থীর সাক্ষাৎ ও নিষিদ্ধ রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালামকে প্রধান করে গাজীপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উন্মে হাবিবা ফারজানা ও ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীকে নিয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

এছাড়াও ২১ জানুয়ারি অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেনকে প্রধান করে উপসচিব (সুরক্ষা বিভাগ) আবু সাঈদ মোল্লাহ ও ডিআইজি (ময়মনসিংহ বিভাগ) জাহাঙ্গীর কবিরকে সদস্য করে আরো একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সাত কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ১৮ জানুয়ারির এক আদেশনামায় সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. মাইন উদ্দিন ভূইয়া তিনজনকে প্রত্যাহারের আদেশ দেন। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদেরকে প্রশাসনিক কারনে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-১ থেকে প্রত্যাহার করে কারাঅধিদপ্তরে সংযুক্ত করার কথা আদেশ নামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রত্যাহারকৃতরা হলেন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর ডেপুটি জেলার গোলাম সাকলাইন, সার্জেন্ট ইন্সট্রাক্টর মো. আব্দুল বারী ও সহকারী প্রধান কারারক্ষী মো. খলিলুর রহমান। এরপর একই ঘটনায় ওই কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রতœা রায় ও জেলার নুর মোহাম্মদ মৃধাকে রবিবার প্রত্যাহার করা হয়।

অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসেন জানান, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিরা শাস্তি পাবেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, কারাগারের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজটি আমরা দেখেছি। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যহত রয়েছে। রবিবার পর্যন্ত ওই ঘটনায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এর সিনিয়র জেল সুপার, জেলার ও ডেপুটি জেলারসহ ৫জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।