মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর একজন খ্যাতনামা সংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর। গত বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে তার সাথে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির একটি সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে ইব্রাহিম রাইসি ওই সাংবাদিককে হিজাব পরার অনুরোধ করলে তা খারিজ করে দেন আমানপোর। এরপরই সাক্ষাৎকারটি বাতিল করেন ইব্রাহিম রাইসি। খবর সিএনএন এর।

মূলত, হিজাব না পরায় পুলিশ হেফাজতে ইরানের ২২ বছর বয়সী তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়েই দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির সাথে নিউইয়র্কে সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা ছিল। মাহসা আমিনির মৃত্যু ঘিরে নারীরা মাথার চুল কেটে ও হিজাব পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশজুড়ে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। এরই মধ্যে বিক্ষোভে প্রাণ গেছে অন্তত ৩১ জনের। এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। এ বিষয়টি নিয়েই ইব্রাহিম রাইসির সাথে আলাপ করার কথা ছিল দক্ষ ও অভিজ্ঞ এ সাংবাদিকের।
সাক্ষাৎকার বাতিল প্রসঙ্গে সংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপোর বলেন, এক সপ্তাহ ধরে নানা পরিকল্পনার পর প্রায় আট ঘণ্টা ধরে আমরা লাইট, ক্যামেরা ও অনুবাদের সরঞ্জাম প্রস্তুত করেছিলাম। সাক্ষাৎকার শুরু হওয়ার ৪০ মিনিট পরে একজন সহকারী এসে বলেন, প্রেসিডেন্ট রাইসি আমাকে মাথায় স্কার্ফ পরতে বলছেন, কারণ এখন পবিত্র মহররম ও সফর মাস চলছে। কিন্তু আমি স্কার্ফ পরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছি। এরপর তিনি সাক্ষাৎকারটি বাতিল করেছেন।

তবে এর আগেও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে গিয়ে মাথায় হিজাব পরেছেন এই সাংবাদিক। তাহলে এক্ষেত্রে কেনো তিনি রাজি হলেন না তারও জবাব দিয়েছেন তিনি। একটি টুইট করে তিনি বলেন, আমি যখন ইরানে বা আফগানিস্তানে গিয়ে সাক্ষাৎকার নিয়েছি, তখন মাথায় স্কার্ফ পরেছি। কিন্তু যে দেশে স্কার্ফ পরার প্রয়োজন নেই, সে দেশে আমি স্কার্ফ পরব না। আমি এখন নিউইয়র্কে আছি। এখানে মাথায় স্কার্ফ পরাসংক্রান্ত কোনো আইন নেই বা ঐতিহ্য নেই। এর আগে ইরানের কোনো প্রেসিডেন্ট এ ধরনের অনুরোধ করেননি।

অবশ্য এ ব্যাপারে মন্তব্যের জন্য ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে তারা কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে সিএনএন।