গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের ৬১ জন কাউন্সিলর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। গত ১২ মার্চ আবেদনটি ওই মন্ত্রনালয়ে জমা দেওয়া হয়।

আবেদনে কাউন্সিলরগণ বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত কাউন্সিলর ও দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। কিন্তু তাকে সাময়িক বরখাস্তের পর বিগত ১৫ মাসে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়রের (কাউন্সিলর) স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সমন্বয়হীনতা বর্তমানে চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। যার ফলস্বরূপ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণরূপে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে উন্নয়নের যে ধারা চালু করেছিলেন বর্তমান প্যানেল মেয়রের (কাউন্সিলর) সমন্বয়হীনতা ও জনগণের চেয়ে নিজের উন্নয়নে অধিক মনোযোগী হওয়ার কারণে আজ তা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এর ফলে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ লক্ষ সাধারণ জনগণ তাদের প্রাপ্য নাগরিক সেবা হতে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে। কার্যত সিটি কর্পোরেশন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এতে সরকারের ও দলের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

আবেদনে আরো বলা হয়, ইতোমধ্যে মহামান্য হাইকোর্টে ভারপ্রাপ্ত মেয়র (প্যানেল মেয়র) আসাদুর রহমান কিরণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও দ্বৈত নাগরিকতাসহ ২১টি বিষয় নিয়ে রিট দাখিল করা হয়। উক্ত রিটের প্রেক্ষিতে দুদককে তদন্ত করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

এ ব্যাপারে ২৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাওলানা মনজুর হোসেন বলেন, নগরীর উন্নয়নের জন্য নির্বাচিত মেয়রের বিকল্প নেই। নির্বাচিত মেয়রের জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকে। তাই জনগণের নির্বাচিত মেয়রকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছি।

জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আরো অন্তত ১০ জন কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বললে তারা জাহাঙ্গীর আলমকে মেয়র পদ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদনে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাহাঙ্গীর আলমের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই অডিওতে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আপত্তিকর কটুক্তি করতে শুনা যায়। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ নবেম্বর তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। পরে বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৫ নবেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। পরে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গত পহেলা জানুয়ারি আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে জাহাঙ্গীর আলমের দল থেকে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।