DoinikBarta_দৈনিকবার্তা_Rubel_happy_bg_136784386

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২০ মে: চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার রুবেল হোসেন। বুধবার ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন।এ সময় হ্যাপী ও রুবেল দুজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।গত ১৭ মে হ্যাপী ট্রাইব্যুনালে রুবেলকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেছিলেন।ওই আবেদনে বলা হয়েছিল, সাক্ষীদের সঙ্গে কথা না বলেই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মনগড়া তদন্তের মাধ্যমে আসামিকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুর থানায় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রুবেলের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন হ্যাপী। এ মামলায় ৪ দিন কারাগারেও ছিলেন রুবেল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিয়ে অসাধারণ নৈপূণ্য প্রদর্শন করেন এ পেস তারকা।বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ৫ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তানজিনা ইসমাইল ক্রিকেটার রুবেলকে অব্যাহতি দেন।গত ১৭ মে হ্যাপি ট্রাইব্যুনালে এ নারাজি দাখিল করেছিলেন। শুনানির সময় রুবেল ও হ্যাপি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।এ বিষয়ে হ্যাপির আইনজীবী তুহিন হাওলাদার জানান, মামলার তদন্ত সঠিকভাবে না হওয়ায় হ্যাপি এ নারাজি দাখিল করেছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার বাদী সাক্ষ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। অথচ আইনের বিধান থাকার পরও মূলত তিনি সাক্ষী হাজির করতে বাদীকে কোনো নোটিসই দেননি।নারাজি আবেদনে ৮জন সাক্ষীর একটি তালিকাও দেওয়া হয়।গত ৬ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারী সহায়তা ও তদন্ত বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক (ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার) পরিদর্শক হালিমা খাতুন।

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে মিরপুর থানায় গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রুবেলের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন হ্যাপি। এ মামলায় ৪দিন কারাগারেও ছিলেন রুবেল। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশের হয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নিয়ে অসাধারণ নৈপূণ্য প্রদর্শন করেন এ পেস তারকা।চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বাদী হ্যাপির উপস্থাপন করা নাইটি, পাপোষ ও জার্সিতে রুবেলের বীর্য পাওয়া যাবে বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তার সত্যতা পাওয়া যায়নি।তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার শারীরিক পরীক্ষা করে মতামত দিয়েছিলেন যে, হ্যাপির শরীরের কোথাও কোনো ধরনের ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাদী প্রাপ্তবয়স্ক নারী। এ হিসেবে পারস্পরিক সম্মতিতে এ ঘটনা ঘটতে পারে।মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে বাদী হ্যাপির অভিযোগের দায় থেকে রুবেলকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলা দায়েরের পর পরই গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টে হাজির হয়ে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নেন রুবেল। বিচারপতি সৈয়দ এবি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে আগাম জামিন দেন।আইন অনুসারে বিচারিক আদালত থেকেও জামিন নিতে হয়। সে কারণে আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত ৮ জানুয়ারি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান রুবেল। তার এ আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার সাদাতের আদালত।পরে ১১ জানুয়ারি রুবেলের জামিনের আবেদন জানানো হলে মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইমরুল কায়েস। ওইদিন বিকেলেই কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে পরদিন ১২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাম্পে যোগ দেন তিনি। ২৪ জানুয়ারি দলের সঙ্গেই অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে যান দেশের এ নির্ভরযোগ্য ও কৃতি পেসার।