মসজিদে নববীতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির অতিকায় ছাতাসৌদি আরবের মদিনা শহর সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর। কারণ মুসলিমদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) বিশ্বের বৃহত্তম মসজিদগুলোর একটি ‘মসজিদে নববী’ তৈরি করে গেছেন এখানে। সেটা বহু শতাব্দী আগের কথা, দিনে দিনে বড় হয়েছে এই মসজিদ। কিন্তু তারপরেও প্রতি বছর সারা বিশ্বের যত হজ যাত্রী সেখানে জড়ো হয় তাদের স্থান দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত হয়ে উঠতে পারেনি।

এমনিতে শান্ত নির্ঝঞ্ঝাট শহর মদিনা হুট করে বদলে যায় হজের সময়। লাখ লাখ হজ যাত্রীর কোলাহলে পূর্ণ হয়ে ওঠে মদিনার এই মসজিদ। সেই সাথে থাকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ। মরুভূমির দেশ সৌদিতে তাপমাত্রা পৌঁছে ৪৮-৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মসজিদের মেঝে মার্বেল পাথরের তৈরি। সেখানে যদি এই পরিমাণ উত্তাপ ছড়ায় সূর্য তাহলে উপস্থিত হজ যাত্রীদের জন্য সেটা হবে চরম যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু কিভাবে ছায়া দেয়া যায় তাদের?  এতো বিশাল উন্মুক্ত জায়গায় তো এয়ার কন্ডিশন বসানো সম্ভব নয়। কিন্তু সমাধান তো চাই। মানুষকে রোদের দাবদাহ থেকে রক্ষা করতে হবে। এই ধরনের ব্যতিক্রমি পরিবেশের জন্য চাই ব্যাতিক্রমি সমাধান।

মসজিদের সৌন্দর্য নষ্ট না করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করার একটি ব্যাতিক্রমি উপায় বের করলো এসইএফএআর ও এসএল-রাস্কের মত বিশ্ববিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এবং জার্মান স্থপতিরা মিলে। ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে তারা মসজিদের উপরের খাম্বাগুলোতে স্থাপন করলো বিশালাকৃতির ছাতা। এই ছাতাগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এগুলো ভাজ করা যায়। প্রতিটি ছাতা লম্বা হয় ২০ মিটার । ঐ সময়ে এগুলোই ছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাতি। ছাতাগুলো খুলে দিলে মসজিদের ১ লাখ ৪৩ হাজার বর্গমিটার জায়গা ঢেকে যায়। ছাতার উপকরণে বেশ কয়েক ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে করে তাপমাত্রা কমে যায় কমপক্ষে ৮ ডিগ্রি।