%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ac

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক,লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নিয়মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক্ -লাখো কণ্ঠের এই ধ্বনিতে আজ মুখরিত হয়ে উঠছে আরাফার ময়দান। পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শনিবার শুরু হয়েছে । রোববার পালন করা হচ্ছে মূল হজ। এদিকে,পুরো খুতবায় ধর্মীয় উগ্রতা ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান নতুন খতিব আব্দুর রহমান আস সুদাইস।আরবকে নিরাপদ নগরী উল্লেখ করে এর নিরাপত্তা যেন অটুট থাকে, সে দোয়া করেন তিনি।ভাষণে আব্দুর রহমান আস সুদাইস আরও বলেন, আজকের দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে এ দিবসের তাৎপর্যের নানা দিক তুলে ধরেন।স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় খুতবা শেষ হয়।তিনি সুন্নতের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন এবং হজ পরবর্তী চার দিনের কাজগুলো ধারাবাহিকভাবে বলে দেন।

সবার উদ্দেশে তিনি বলেন, ভালো কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করবেন। আল্লাহর ইবাদতে বেশি সময় কাটাবেন, নামাজকে গুরুত্ব দেবেন। নবীর প্রতি দরূদ পড়বেন তার শাফায়াত প্রত্যাশা করবেন।বয়ানে তিনি ইসলামের চার খলিফার নাম উল্লেখ করেন এবং তাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।ভাষণের শেষ অংশে দোয়ায় তিনি বিশ্ব শান্তি কামনা করে মুসলমানদের ঐক্য প্রত্যাশা করেন। আত্মশুদ্ধি কামনা করেন। আল্লাহর গুণবাচক নিয়ে নিয়ে মানবতার মঙ্গল কামনা করেন। এসময় কান্নার আওয়াজ শোনা যায় আরাফার মাঠ থেকে। দোয়ায় তিনি নবীর দেখানো পথে চলার শক্তি কামনা করেন। উপস্থিত হাজিদের জন্য আল্লাহর দরবারে কবুল হজ কামনা করেন। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য দোয়া করেন। সমগ্র বিশ্বের কবরবাসীদের মাগফিরাত কামনা করেন।খুতবায় তিনি সৌদি হাজীদের উন্নয়নে গৃহীত সৌদি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে তিনি বাদশাহর সুস্থতা কামনা করে দোয়া করেন ও দোয়া প্রার্থনা করেন।এ সময় সাবেক খতিব শায়েখ আব্দুল আজিজকে মসজিদে নামিরার সামনের কাতারে চেয়ারে বসে বয়ান শুনতে দেখা গেছে। বিঘোষিত হবে আল্লাহতায়ালার একত্ব ও মহত্ত্বের কথা। কাফনের কাপড়ের মতো সাদা দু’টুকরো ইহরামের কাপড় পড়ে আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়বে সৌদি আরবে অবস্থানরত হজপালনকারীরা। আল্লাহতায়ালা এবং বান্দার মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের অনন্য আবহে বিরাজ করবে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্য।

হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সৌদি সরকার। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড ইমাম হাজিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করবেন। রেওয়াজ অনুযায়ী জোহরের নামাজের আগেই হজের খুতবা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল হজের খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করবে। হজের খুতবা শোনা হজের অন্যতম বিধান। ১৯৮১ সাল থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবুদল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল শায়খ হজের খুতবা দিয়ে আসছিলেন। শনিবার স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন। এখনও ঠিক হয়নি কে হজের খুতবা প্রদান করবেন।

গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম মুফতি সালিহ বিন হুমাইদ গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজের স্থালাভিষিক্ত হতে পারেন। অনেকে অবশ্য ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার শায়খ সালিহ আল আশ শায়খ ও দুই পবিত্র মসজিদের প্রেসিডেন্সি চেয়ারম্যান গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইসের নামও বলছেন। আরাফার ময়দানে অবস্থান প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুর রহমান বিন ইয়ামার আদ-দায়লি (রা.) হতে বর্ণিত আছে, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আরাফাই তো হজ। ইমাম শাওকানি (রহ.) এ কথার ব্যাখ্যায় বলেছেন, যে ব্যক্তি আরাফাতে অবস্থানের জন্য নির্দিষ্ট দিনে উক্ত ময়দানে উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য অর্জন করল তার হজ হয়ে গেল।এএফপিসহ বিভিন্ন বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, নির্বিঘেœ হজ সম্পন্ন করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। মক্কা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অস্ত্রসজ্জিত যান নিয়ে রাস্তায় টহল দিচ্ছে পুলিশ। আকাশে চক্কর দিচ্ছে সামরিক হেলিকপ্টার। ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়াসহ যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা মোকাবেলায় নিয়োজিত রাখা হয়েছে হাজার হাজার কর্মী। প্রস্তুত রয়েছে হাসপাতালগুলো।আরাফার ময়দানে অবস্থিত মসজিদে নামিরা থেকে দুপুরে হজের খুতবা দেওয়া হবে। এখানে খুতবার পর এক আজানে দুই ইকামতে জোহর ও আসরের কসরের (দুই রাকাত করে) নামাজ আদায় করবেন হজযাত্রীরা।

এরপর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফায় যাবেন। সেখানে গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করবেন। মুজদালিফাতেও খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন। সেখান থেকে জামারায় শয়তানকে মারার জন্য পাথর (কংকর) সংগ্রহ করে নেবেন। ১০ জিলহজ ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে হাজিরা আবার মিনায় ফিরবেন।মিনায় হাজিরা পশু কোরবানি, মাথা মুন্ডু, শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও ইহরাম ছাড়ার কাজগুলো সম্পন্ন করবেন। হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে হাজিরা মিনায় গিয়ে ১০ জিলহজে কোরবানি করবেন এবং মাথা মুন্ডু বা চুল ছাঁটাবেন। এরপর মক্কায় পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করবেন। এই তাওয়াফের নাম তওয়াফে জিয়ারাহ। এর আগে সৌদি আরব গিয়েই হজযাত্রীরা প্রথমে একবার অবশ্যই পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফ করেন।বিদায়ী তওয়াফ সেরে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ সেখানে অবস্থান করে প্রতিদিন তিন শয়তানকে পাথর মারবেন। এভাবে সম্পন্ন হবে হজের পুরো আনুষ্ঠানিকতা।

ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ পালন। জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করতে হয়। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা হজ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।সারাবিশ্ব থেকে সৌদি আরবে সমবেত ২০ লাখের বেশি মুসলমানের মিনায় অবস্থান নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হজ পালনের আনুষ্ঠানিকতা।সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজিরা দিতে আসা এই মুসলমানরা রোববার জড়ো হবেন আরাফাতের ময়দানে, যাকে হজের মূল অনুষ্ঠান বলা হয়। পরদিন সৌদি আরবে ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজ।

সৌদি আরবের সংবাদ মাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ১৬৪টি দেশের প্রায় ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ করছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা এক লাখের বেশি।হজ করতে মক্কায় আসা মুসলমানরা শুক্রবার মসজিদুল হারামে (কাবা শরিফ) জুমার নামাজ পড়েন। পরে মক্কা থেকে তারা জড়ো হতে শুরু করেন ১০ কিলোমিটার দূরে তাবুনগরী মিনায়।

সাদা কাপড়ে আচ্ছাদিত বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা, জাতীয়তার লাখো মুসলমান কেউ বাসে, কেউ গাড়িতে, কেউবা হেঁটে মিনার পথে রওনা হন। তাদের সবার মুখে ছিল লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক’ ধ্বনি।এর অর্থ হল, আমি হাজির। হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সা¤্রাজ্যও তোমার।

শনিবার দুপুরের মধ্যে হজে আসা সবাই মিনায় অবস্থান নেন। ইবাদত-বন্দেগিতে মিনায় রাত কাটানোর পর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তারা জিকির করেন, নামাজ পড়েন জামায়াতের সঙ্গে।আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আবহাওয়া আরামদায়ক না হলেও হজ করতে আসা মুসলমানরা তা আমলে নিচ্ছেন না।ভারত থেকে হজে যাওয়া তালাত আহমাদ বলেন, এই অভিজ্ঞতা অসাধারণ। আমি রোমাঞ্চিত।এর আগে দুইবার ওমরাহ করলেও এই প্রথম হজ করছেন বলে জানান তালাত।মরক্কো থেকে আসা ৫৪ বছর বয়সী নাসের বেনফিত্তাহ এবারের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ থেকে সব ভাষার মানুষ আজ এখানে এসেছে এক ছাতার নিচে।

মিনায় আসার পর সবাই রাত কাটিয়েছেন তাঁবু খাটিয়ে। হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য রোববার ভোরে তারা যাত্রা শুরু করেন বিদায় হজের স্মৃতি জড়িত আরাফাত ময়দানের উদ্দেশে। সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবেন।চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত।মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন।

সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়, ১৯৮১ সাল থেকে আরাফাতের মসজিদে নামিরাহে হজের খুতবা দিয়ে আসছিলেন সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজ আল শাইখ। তবে এবার তিনি অসুস্থ থাকায় তার বদলে খুতবা দেবেন সৌদি আরবের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সালেহ বিন হুমাইদ। এ খুতবা রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বিশ্বময়।মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আদি পিতা আদম ও আদি মাতা হাওয়া পৃথিবীতে পুনর্মিলনের পর এই আরাফাতের ময়দানে এসে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। ১৪ শ’ বছরেরও বেশি সময় আগে এখানেই ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) দিয়েছিলেন তার বিদায় হজের ভাষণ।

এই আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হবে স্বল্প সময়ের জন্য।ইসলামী রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হল হজ।আরাফাত থেকে মিনায় ফেরার পথে সন্ধ্যায় মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন সমবেত মুসলমানরা। মুজদালিফায় রাতে থাকার সময় তারা পাথর সংগ্রহ করবেন, যা মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হবে। সোমবার সকালে মিনায় ফিরে সেই পাথর তারা প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে ছুড়বেন। এরপর কোরবানি দিয়ে ইহরাম ত্যাগ করবেন এবং সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।গতবছর হজ মওসুমে দুটি বড় দুর্ঘটনার পর সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনার সমালোচনায় মুখর হয় ইরান। রিয়াদের বদলে হজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব মুসলিম বিশ্বের হাতে রাখারও দাবি তোলে তারা।হজ মওসুমের শুরুতেই গতবছর ১১ সেপ্টেম্বর মক্কায় মসজিদুল হারামের সংস্কার কাজের জন্য রাখা একটি ক্রেইন উল্টে ১১১ জনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্েয ২৫ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। এরপর হজের শেষ মুহূর্তে ২৪ সেপ্টেম্বর মিনায় প্রতীকী শয়তানকে পাথর ছুড়তে যাওয়ার সময় ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে সহ¯্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।বিভিন্ন দেশ তাদের নিহত নাগরিকদের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে নিহতের মোট সংখ্যা ২ হাজার ২৩৬ জনের বেশি।তবে ঘটনার পর দুই দিনে ৭৬৯ জনের লাশ উদ্ধারের খবর দেওয়ার পর সৌদি আরব সরকার আর সেই তালিকা হালনাগাদ করেনি।পদদলনে নিহতদের মধ্েয ১৩৭ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল সে সময়।