সাবেক স্ব-রাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ বলেছেন, আমি মানুষের মাঝে আছি, মানুষের মাঝেই থাকবো। কাপাসিয়ার মানুষ সবসময়ই কাছে পাবে আমাকে। তবে এই মূহুর্তে রাজনীতি নয়, আমি আমার মায়ের নামে করা মা ও শিশু হাসপাতাল বাস্তবায়নের জন্য এসেছি। নতুন প্রজন্মের কাছে আমার একটি মাত্র চাহিদা। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারে। তারা যেন সেই নীতি ও আদর্শ যেন বুকে ধারন করে প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নেয়।

তিনি সোমবার গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে ‘সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। সোহেল তাজ আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ দেশ, জাতী ও সমাজের জন্য আমার পিতা তাজউদ্দীন আহমদ ও মা সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের অনেক অবদান রয়েছে। আমার পরিবার এলাকার গরীব, দুঃখী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য চেষ্টা করে চলেছে। আমি যতদিন প্রতিনিধি ছিলাম, আমিও আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। বর্তমানে আমার বড়বোন সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে যথেষ্ট চেষ্টা করছে। আগামীতে বড়বোনের পাশে থেকে এলাকার জন্য কাজ করবো।

কাপাসিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক লাজু শামসাদ হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠাণে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও মহাপরিচালক কাজী মোস্তফা সারোয়ার, উন্নয়ন সরবরাহ বিভাগের যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমান, এমসিএইচ পরিচালক ডাঃ মোঃ শরীফ, কেন্দ্রীয় পন্যাগারের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ তসলিম উদ্দিন খান, গাজীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ সৈয়দ মোঃ মঞ্জুরুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাকছুদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. রেজাউর রহমান লস্কর মিঠু প্রমূখ। এসময় গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সফটওয়্যার কার্যক্রমের উদ্বোধন ও কার্ড বিতরণ করা হয়।

সাংসদ সিমিন হোসেন রিমি জানান, গত দেড় বছর যাবত চেষ্টা চালিয়ে দরিদ্র, অসহায় গর্ভবতী মা’দের গর্ভ পুর্ববর্তী, চলতি ও পরবর্তী সেবা প্রদানের জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতে গর্ভবতী মা’দেরকে প্রসব পূর্ববর্তী, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের উদ্দেশে এ কার্ডটি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ওষুধ সরবরাহ সহ মোট ২৭টি সেবা দেয়া হবে।

আয়োজকরা জানান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের জরিপ মতে কাপাসিয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৯৮৬ জন গর্ভবতী মা রয়েছে। তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক ভাবে ১১০ জন গর্ভবতী মা’কে স্মার্ট কার্ড দেয়া হয়েছে। গর্ভবতী মা’দেরকে প্রসব পূর্ববর্তী, প্রসবকালীন ও প্রসব পরবর্তী স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের উদ্দেশে এ কার্ড দেয়া হয়েছে। এসব গর্ভবতী নারীরা শ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারের। কার্ডধারীরা ৪ বার প্রসব পূর্ব সেবা সম্পর্কে অবহিত হবেন। কোথায়, কখন এবং কোন ব্যক্তির কাছে এই সেবা পাওয়া যাবে তার অফিসিয়াল ফোন নম্বরসহ বর্ণনা থাকবে। ৪ মাস, ৬ মাস, ৮ মাস, ৯ মাস সময়ে প্রত্যেকবারই পরিদর্শনের তারিখের ৩ দিন পূর্বে স্মার্ট এমসিএইচ সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সফ্টওয়ার থেকে গর্ভবতী মায়ের মোবাইল ফোনে সেবা গ্রহনের স্থান ও ব্যক্তির নাম ও ফোন নাম্বরসহ বাংলায় এসএমএস’র (ক্ষুদে বার্তা) মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদেরকে নিয়মিত তথ্য পৌছে দেয়া হবে। প্রতিটি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ওষুধ সরবরাহ সহ মোট ২৭টি সেবা সফটওয়্যারের সাহায্যে প্রদান করা হবে।