আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের লাল তালিকায় ৭০ জনের বেশি বাংলাদেশি অপরাধীর নাম রয়েছে। তবে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি মানবপাচারীর নাম সেই তালিকায় স্থান পেয়েছে। মিন্টু মিয়া নামে ওই পাচারকারীর বিরুদ্ধে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করা এবং চাকরি প্রত্যাশীদের অবৈধভাবে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, এমনকি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তার নাম ইন্টারপোল তালিকায় যোগ করে।

মিন্টু মিয়াসহ ছয়জন মানবপাচারকারীর নাম ইন্টারপোলের লাল তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সৈয়দা জান্নাত আরা। এই পাচারকারীরা বিদেশে চাকরি দেওয়ার নাম করে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে টাকা নেন। এরপর লিবিয়ায় তাদের আটকে রেখে আরও অর্থের জন্য তাদের ওপর নির্যাতন চালায় বলে জানান তিনি।

সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, ‘ইন্টারপোলে তাদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার কারণে তাদের চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হবে, কারণ যে দেশেই তারা যাক না কেন সেখানেই তাদের আটকের চেষ্টা করা হবে।’

জার্মান বার্তা সংস্থা ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে লিবিয়ায় ২৪ জন বাংলাদেশিকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনার পর মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে পুলিশ। জুন মাসে অন্তত ৫০ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এটি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় অভিযান’ বলে দাবি করছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন শীর্ষ পাচারকারী রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই পাচারকারী প্রায় চারশ বাংলাদেশিকে লিবিয়ায় পাঠিয়েছিল।

মানবপাচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের চলতি বছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাচার রুখতে বাংলাদেশ তৎপরতা বাড়িয়েছে। হাজার হাজার মামলা নিষ্পত্তি করতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যদিও অভিযুক্তের সংখ্যা এখনো কম।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সারা বিশ্বের ৭ হাজার ৩৬৮ জন অপরাধীর নাম ইন্টারপোলের লাল তালিকায় রয়েছে।