মাসব্যাপী চলছে পাহাড়ে কঠিন চীবর দানোৎসব। লাখো পুণ্যার্থীর শ্রদ্ধায় সিক্ত পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন বিহারের ভিক্ষু সংঘ। আর মহাদানযজ্ঞের মধ্যদিয়ে শেষ হবে পার্বত্যাঞ্চলের কঠিন চীবর দানোৎসব।

শুক্রবার সকাল থেকে কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে রাঙামাটি রাজবন বিহার পরিণত হয় লোকারণ্যে। এ মহাপুণ্যানুষ্ঠানে সদ্ধর্মানুরাগী অগণিত পুণ্যার্থীর পাশাপাশি ঢল নামে হাজার হাজার দর্শনার্থীর। তবে করোনা সংক্রমণ এড়াতে রাঙামাটি রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। মাস্ক ছাড়া বিহারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি কোন পুণ্যার্থীকে। সব ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক নারী-পুরুষের মহাসম্মিলনে পুরো বিহার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। হাজারও মানুষের পদাভারে রাজপথ থেকে সমগ্র রাজবন বিহার এলাকা। যেন তিল ধারণের জায়গাটুকু অবশিষ্ট ছিল না কোথাও। লাখো মানুষের কন্ঠে সাধু, সাধু, সাধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় পুরো রাজবন বিহার।

রাজবন বিহার মাঠে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে নির্দেশনা দেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষুরা। পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন রাঙামাটি রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান। পরে তিনি পরে পরিনির্বাণগত বনভান্তের উদ্দেশ্যে চীবর ভিক্ষুসংঘের হাতে তুলে দেন। এছাড়া পূর্ণাথীদের উদ্দেশ্যে বৌদ্ধ আর্যপুরুষ মহাসাধক শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের সকল প্রাণীর হিতার্থে নির্দেশনা শুনানো হয়।

রাঙামাটি রাজবন বিহার উপাসক-উপাসিকা পরিষদের সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, উৎসব আগের মত আছে তবে করোনার জন্য আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। এবার রাঙামাটি রাজ বন বিহারে চীবর বুনন উৎসব হয়নি। দু’দিনের অনুষ্ঠান একদিনে সম্পন্ন করা হয়েছে। তাছাড়া এবার চীবর দান উৎসবে রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় অসুস্থতার জন্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। প্রতি বছর বিহারের উত্তর মাঠে দানোৎসবের আয়োজন করা হলেও এবার তা হয়নি। করোনার জন্য সব কিছুতে কাটছাট করা হয়েছে। আমরা যথা স্বাধ্য চেষ্ট করেছি। মানুষকে সচেতন করতে।

প্রসঙ্গত, প্রবারণা পূর্নিমার পর বৌদ্ধ ভিক্ষুদের জন্য মাসব্যাপী পার্বত্যাঞ্চলের বিহারগুলোতে পালন করা হয় কঠিন চীবর দানোৎসব। এবার রাঙামাটি রাজ বন বিহারের কঠিন চীবর অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪৭তম দানোৎসব।