সারাদেশের ন্যায় এক যোগে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে ১১০টি ভুমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসক হারুন-আর-রশিদ এর সভাপতিত্বে, নওগাঁ সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন উপকারভোগীদের মাঝে জমিসহ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট গৃহ প্রদানের সার্টিফিকেট, কবুলিয়ত দলিল, খতিয়ান ও ডিসিআর সম্বলিত ফোল্ডার প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া, নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা ইমাম উদ্দিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার পূনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জেলার ১১টি উপজেলায় এক হাজার ৫৬টি পরিবার ঘর পেয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১০টি, বদলগাছীতে ৪৮টি, মহাদেবপুরে ৩৪টি, আত্রাইয়ে ১৭৫টি, রানীনগরে ৯০টি, মান্দায় ৯০টি, সাপাহারে ১২০টি, নিয়ামতপুরে ৭১টি, পোরশায় ৫৪টি, ধামইরহাটে ১৫০টি এবং পত্নীতলায় ১১৪টি।

উপকারভোগীদের মধ্যে ভিক্ষুক পরিবার ৩১টি, প্রতিবন্ধী ১৫টি, অন্যের বাড়িতে-রাস্তার পাশে ও খোলা জায়গায় ঝুপড়ি ঘরে থাকা ১১টি, স্বামী পরিত্যক্তা ও বিধবা ৫৫টি, দিনমজুর ১২টি, আদিবাসী ৯১টি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার রয়েছে ৭৩টি।

এসব আধাপাকা প্রতিটি গৃহ নির্মাণে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রতিটি বাড়িতে আছে- দুটি শোবার ঘর, একটি টয়লেট, রান্নাঘর, কমনস্পেস ও একটি বারান্দা। এসব ঘর প্রত্যেক পরিবারের জন্য আলাদা করে নির্মাণ করা হয়েছে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় প্রায় নয় লাখ মানুষকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকাঘর উপহার দেয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ঘর পেল প্রায় ৭০ হাজার পরিবার। আগামী মাসে আরও ১ লাখ পরিবার বাড়ি পাবে। অনুষ্ঠানে আশ্রয়ন প্রকল্পের উপর তৈরি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।