তুরস্কের ড্রোন নিয়ে বিশ্বজুড়েই চর্চা শুরু হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তুর্কি ড্রোন বিপুল সাফল্য লাভ করছে যুদ্ধক্ষেত্রে। কারাবাখ ও লিবিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রেও তুরস্কের তৈরি ড্রোনগুলো কেবল বিপুল সাফল্যই লাভ করেনি বিশ্বব্যাপী প্রশংসাও পেয়েছে। এবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রচার মাধ্যম এসআরএফও তুরস্কের তৈরি এ বিস্ময়কর অস্ত্রগুলোর গুণকীর্তন করছে। সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে আয়োজিত সুইস টিভি প্রোগ্রাম ‘টেন ওভার টেনের’ একটি পর্বে তুরস্কের ড্রোনের সাফল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

গত সোমবার (৩১ মে) এ অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়। এ টিভি অনুষ্ঠানে তুরস্কের ড্রোন নির্মাতা কোম্পানি বায়কারের জেনারেল ম্যানেজার সেলজুক বায়রাকতারের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়। ওই টিভি অনুষ্ঠানের সামরিক বিশেষজ্ঞরা এ ড্রোনগুলোকে অত্যন্ত কার্যকর ও সর্বাধুনিক বলে বর্ণনা করেছেন। এ সময় সামরিক বিশেষজ্ঞরা সিরিয়া, লিবিয়া ও কারাবাখের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে তুরস্কের তৈরি ড্রোনগুলোর সাফল্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এ ড্রোনগুলোর ব্যাপক সাফল্যই তাদের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের কারণ বলে দাবি করেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। আর তাই তুরস্ক ইউক্রেনে ড্রোনগুলো রফতানি করার জন্য চুক্তি করেছে। অতি সম্প্রতি ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ডেও নিজেদের ড্রোন রফতানির চুক্তি করেছে তুরস্ক।

পোল্যান্ড তুরস্কের বায়কার কোম্পানির ২৪টি বায়রাকতার টিবি২ ড্রোন ক্রয় করবে। এ প্রথমবারের মতো কোনো ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ তুরস্ক থেকে সামরিক ড্রোন সংগ্রহ করল। ড্রোন নিয়ে তুরস্কের সমর কৌশল বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে। বহু দেশ তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে তুরস্কের বর্তমান সাফল্যের আলোকে পুনর্বিন্যস্ত করছে, যাতে করে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ কৌশলের যে পরিবর্তন হচ্ছে তার সাথে মানিয়ে নেয়া যায়। বায়রাকতার টিবি২ সশস্ত্র ড্রোনগুলোর উৎপাদন ও উন্নয়ন করেছে তুর্কি প্রতিরক্ষা কোম্পানি বায়কার টেকনোলজিস।

২০১৫ সাল থেকে তুরস্কের সেনাবাহিনী ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী এ ড্রোনগুলো ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে কারাবাখ যুদ্ধে আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর সামরিক সাফল্যের জন্য এ ড্রোনগুলোকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।