High Cort

দৈনিকবার্তা-ঢাকা,২৯অক্টোবর: মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীরআমীরমতিউর রহমান নিজামীর মৃতু্যদন্ডের রায়ে সনত্মোষ প্রকাশ করেছে প্রসিকিউশন৷আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবু্যনালনাল-১এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বুধবার জনাকীর্ণ ট্রাইবু্যনালে এ রায় ঘোষণা করে৷ ট্রাইবু্যনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারম্নল হক৷

মামলার রায় পরবতর্ী প্রতিক্রিয়ায় প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী বলেন, নিজামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে প্রসিকিউশন৷এ রায় ঐতিহাসিক৷ যা বিচার বিভাগের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে৷ এতে দীর্ঘ সময় পরে হলেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে৷ এ রায়ে শহীদদের আত্মা শানত্মি পাবে৷প্রসিকিউটর হায়দার আলী বলেন, ট্রাইবু্যনাল রায়ে মতিউর রহমান নিজামীকে কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যাকারী বলে উল্লেখ করেছে৷ নিজামী ইসলাম ধর্মের একজন পন্ডিত ব্যক্তি অথচ যুক্তিযুদ্ধের সময় কোরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করে গণহত্যা, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ করতে অন্যদের উসকানি দিয়েছেন৷ রায়কে যুগানত্মকারী উলেস্নখ করে এ প্রসিকিউটর বলেন, আইনের শাসন আরো দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি রায়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মা শানত্মি পাবে৷ মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত এবং দেশের মানুস আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের জন্য এ রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে৷

মানবতাবিরোধী অপরাধে জামাত নেতা ও আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তুরিন আফরোজ ট্রাইবু্যনালের এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন৷ বুধবার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন তিনি৷প্রথমেই হচ্ছে যে আমরা একটি সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি ৪০ বছর পর এ যুদ্ধে আমরা নেমেছি৷ এমনিতেই অনেক সময় পার হয়ে গেছে৷ না না প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়েছি৷ তারপরও আজকে যখন সত্য প্রতিষ্ঠায় আমরা সফল হয়েছি আমরা অত্যন্ত খুশি৷ দেরিতে হলেও এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি, সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছি৷

গণহত্যা ছাড়াও অন্যান্য যে অপরাধগুলো ছিলো সেখান থেকেই আসলে ফাঁসির আদেশ এসেছে, অন্যগুলোতে যাবজ্জীবন এসেছে৷ তবে ফাঁসির জায়গা থেকে বলেছে এভাবে যে ব্যাপকভাবে ঢালাওভাবে হত্যা করেছে বুদ্ধিজীবীদের, নিরস্ত্র মানুষকে, পেশাজীবীদেরকে নিধন করা হয়েছে৷ আসলে বিশ্বে এমন নিধোনযজ্ঞের নির্দশন খুবই কম৷ অপরাধের ভয়াবহতা এতো বেশি যে এখান থেকে মৃতু্যদণ্ড ছাড়া আর কোনো শাস্তি প্রযোজ্য হতে পারে না বলে জানান তিনি৷ প্রথমত একজন রাজনীতিবিদ আসামি কখনোই আইনের উধের্্ব নয়৷ তিনি যতই ক্ষমতাবান হোক না কেনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে৷ এটি আমার কাছে চমত্‍কার একটি অবজারভেশন, আরেকটি হলো আলবদর সংগঠনটি ব্যাখ্যা করার সময় ট্রাইবুন্যাল জানায় যে, ক্রিমিনাল সংগঠন তো বটেই এটাকে আজকে নতুন করে আখ্যায়িত করেছে যে এটি একটি সামপ্রদায়িক সংগঠন৷

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র৷ আমাদের অন্যতম মূলনীতি হলো ধর্ম নিরপেক্ষতা৷ একটি রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মের অবমানতা করাকে উস্কানি দেয়া হয়, ধমের্র অপব্যবহার করে নিজামী তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত ও উজ্জীবিত করেছেন৷ এসমস্ত সংগঠনকে ট্রাইবুন্যাল মনে করেন সামপ্রদায়িক সংগঠন৷সূচনা বক্তব্য ট্রাইবুনাল জানায় , নিজামী সাহেবের মামলাটি নিয়ে সুদীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং এ দীর্ঘ সময়ের কারণে নানা মহল থেকে নানা সমালোচনা এসেছে৷ নানা সমালোচনা করা হোক না কেনো এর উত্তর আমরা দিতে পারি না, কারণ ট্রাইবুন্যাল কথা বলেন না৷ এটাকে মাথায় রেখেই আপনাদের সমালোচনার জায়গাটি রাখতে হবে এবং তারা একটি যোগ্য সময় বিবেচনা করেই জায়গাটি রেখেছে৷