BGB

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২০ জুন: চার দিন পার হয়ে গেলেও নিয়ে যাওয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার সীমান্ত পুলিশ (বিজিপি)। এমনকি এ বিষয়ে পতাকা বৈঠকেও সাড়া দিচ্ছে না তারা ।এদিকে, হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় নায়েক আবদুর রাজ্জাকের ছবি প্রকাশ করেছে বিজিপির মুখপত্র দ্যা গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার। গত বৃহস্পতিবার ‘বন্দুকযুদ্ধের পর সীমান্তরক্ষীদের হাতে বিদেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আটক ইংরেজিতে করা এমন একটি শিরোনামের খবরে আবদুর রাজ্জাকের ছবি পকাশ করা হয়।খবরে রাজ্জাককে গ্রেফতার দেখানো হয়। একই সঙ্গে তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলা-বারুদ পাওয়ার কথাও বলা হয়।পত্রিকাটির ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায় নায়েক রাজ্জাকের মুখে রক্তের দাগ রয়েছে। এছাড়া, তার সামনে একটি বন্দুক, ২২টি গুলি, চারটি মোবাইল, একটি রাম দা, একটি চাকু, দুটি টর্চলাইটসহ বেশকিছু আগ্নেয়াস্ত্র রাখা হয়েছে। ছবিতে রাজ্জাককে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

নায়েক আবদুর রাজ্জাককে হাতকড়া পড়িয়ে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করেছে বিজিপি।এর আগে ৪২ বিজিবির অধিনায়েক লে. কর্নেল আবু জার আল জাহিদ দাবি করেছিলেন যে কোনো সময় পতাকা বৈঠক হতে। কিন্তু চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়ে আবু জার আল জাহিদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার টেকনাফে স্থলবন্দর রেস্ট হাউজে বিজিবি-বিজিপি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। উধ্বর্তন কতৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় বিজিপি আসেনি।ঘটনার চতুর্থ দিনে তিনি বলেন, মিয়ানমার সাথে শনিবার যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে তারা কোনো সাড়া দেয়নি।

গত বুধবার সকালে নাফ নদীতে বাংলাদেশের জলসীমায় দুটি নৌকায় তল্লাশি চালায় টহলরত বিজিবির একটি দল। এ সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) পূর্বদিক থেকে একটি ট্রলারে করে এসে বিজিবির টহল দলের ওপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। এতে বিজিবির সিপাহি বিপ্লব কুমার (২১) গুলিবিদ্ধ হন। একপর্যায়ে আহত বিপ্লব কুমারকে নিয়ে বিজিবি দল নিরাপদ অবস্থানে চলে এলেও অপর সদস্য নায়েক আবদুর রাজ্জাককে তুলে নিয়ে যায় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।এর আগে ১৭ জুন বুধবার বিজিবি জানায়, তাদের ওপর কক্সবাজারের টেকনাফ নাফনদীর জলসীমায় গুলি চালিয়েছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা। এতে এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আরেক বিজিবি সদস্যকে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড ধরে নিয়ে গেছে। ওই সদস্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছিল বিজিবি।ঘটনার দিনই বিজিপিকে পতাকা বৈঠকের প্রস্তাব দেয় বিজিবি। বৈঠকের জন্য বিজিপি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সময় নির্ধারণ করলেও পরে কোনো কারণ না দেখিয়েই তা বাতিল করে দেয় বিজিপি।এরপর আটক নায়েক আবদুর রাজ্জাককে ফেরত দেয়ার বিষয়ে বিজিবি বারবার পতাকা বৈঠকে আহ্বান জানালেও তাতে সাড়া দেয়নি বিজিপি।অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সঙ্গে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্যদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অপহৃত বিজিবি সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকেদর সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান খান বলেন, নাফ নদীতে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছিল। ওপাশে বিজিপির সদস্যরাও টহল দিচ্ছিল। আমাদের একটি টহল বোট জালে আটকা পড়ে পিছে পড়ে যায়। এসময় ভুল বোঝাবুঝির কারণে উভয়পক্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিজিবির এক সদস্য আহত হয়। তবে তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।তিনি জানান, বিজিবির নায়েক রাজ্জাক বিজিপির কাছে রয়েছে। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। গুলি বিনিময়ের ঘটনা তদন্ত করে কারণ উদ্ঘাটন করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ভুল বোঝাবুঝির কারণে উত্তেজনা থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের ওপর মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা গুলি চালিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

বুধবার ভোররাতে নাফ নদীর জাদিমুরা পয়েন্টে এ ঘটনায় এক বিজিবি সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ধরে নিয়ে যাওয়া হয় আরেকজনকে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নাফ নদীতে দায়িত্ব পালনকালে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে এক পর্যায়ে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) গুলি চালায়।ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সিপাহী বিপ্লবকে (২১) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।আর বিজিবির নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর মিয়ানমার সীমান্তে একটি ক্যাম্পে রেখেছে বিজিপি।আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ধরনের ভুল যাতে না হয় সে বিষয়ে দুই দেশ আরও সতর্ক হবে।