news_picture_25609_wast-inner

দৈনিকবার্তা-রংপুর, ১৭ অক্টোবর ২০১৫: রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেই সাথে আর্কশ্মিক হাড়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যাও। তবে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত ছাড়পত্র, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণ এবং প্রক্রিয়াজাত করণ বিধি ও আইন মানছে না কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ । ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের ও পরিবেশগত হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে হচ্ছে, যাদের ছাড়পত্র বা অনুমিত নেই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে একটু সময় লাগবে বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। জেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, রংপুরে নিবন্ধনকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক আছে ১৫৬ টি। এর মধ্যে ৭২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৮৪টি ক্লিনিক। সংশ্লিষ্ট সূত্র

আরো জানায়, এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিনের সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণ ও প্রক্রিয়াজাতের ক্ষেত্রে বিধিমালা ২০০৮ এবং সংশোধিত পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ কোন প্রতিষ্ঠানে মানা হচ্ছে না। ফলে অপারেশনকৃত বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, গজ-ব্যান্ডেজ, ব্যবহূত ওষুধ, সিরিঞ্জ-সুঁই, পরীক্ষা কাজে ব্যবহূত স্লাইড, রোগীদের উচ্ছিষ্ট খাবার, এক্সরে রেডিয়েশনসহ অন্যান্য বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে না। যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, ‘ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সৃষ্ট ক্ষতিকর বর্জ্য যথা সময়ে যথাযথভাবে যাতে অপসারণ করা হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ফলাফল লক্ষ্য করিনি। তবে পরিবেশ অধিদফতর জানায়, লোকবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারছে না। কিন্তু হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সৃষ্ট বর্জ্য যাতে অপসারণ ও প্রক্রিয়াজাত করার বিধিমালা ২০০৮ এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র আইন ২০১০ বাস্তবায়িত হয়, সেজন্য ৭৪টি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।

পরিবেশ আদালতও তার যথাযথ কার্যক্রম শুরু করেছে। ফলে পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি আশাবাদী। এদিকে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তরের দেয়া নিয়ম অনুযায়ী তারা বর্জ্য অপসারণ করছেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশনকে বর্জ্য অপসারণে নির্ধারিত চাদাঁও পরিশোধ করেন। তবে বেশির ভাগ বর্জ্য সৃষ্টি হচ্ছে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে। জেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুর রহমান বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন পরিচালিত ভ্যানে বর্জ্য অপসারণ করি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম মেনে এ বর্জ্য ধ্বংস করতে গেলে বিশেষ চুল্লি স্থাপন করা প্রয়োজন। যার নির্মাণ ব্যয় প্রায় দেড় কোটি টাকারও বেশি। ফলে প্রত্যেক মালিককে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হবে। যার ব্যয় বহন করা অনেক মালিকের পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগে স্বপ্ন নামে একটি এনজিও বর্জ্য শোধনের নামে ক্লিনিক মালিকদের টাকা হাতিয়ে পালি গেছে। আমরাও চাই নিয়ম মেনে বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠুক। এজন্য সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মালিক জানিয়েছেন, এর আগে বগুড়া থেকে পরিবেশ অধিদফতরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। ওই সময় একটি নোটিস জারি করা হয়েছিল। যার বাস্তবায়ন করান জন্য প্রত্যেক মালিক তখন ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষকে।

কিন্তু তারা কোন কাজ না করেই সমস্ত টাকা লোপাট করেছেন। রংপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হলে প্রথমে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। পরিবেশ অধিদফতর উদ্যোগী হয়ে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার অবসান করতে পারে। পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারদের নিয়েও এ আলোচনা সভা হতে পারে। সবার সেচ্ছায় অংশ গ্রহণে এ কার্যক্রম সফল করতে পারে। পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আখতারুজ্জামান টুকু ৭৪টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। যারা আইন মানবে না, তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন হবে। এখন জেলায় পরিবেশ আদালত হওয়ায় লোকবল কম হলেও কাজের গতি বাড়ছে। তাছাড়া আমরা রংপুরসহ লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ে পরিবেশ দূষণ রোধে কাজ করছি। সিটি মেয়র শরফুদ্দিন আহম্মেদ ঝন্টু বলেছেন,, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। সিটির পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত কর্মীরা ওই বর্জ্য সংগ্রহ করে যথা সময়ে পুড়িয়ে দেন অথবা নির্দিষ্ট স্থানে মাটিতে পুঁতে ফেলে। কিন্তু সিরিঞ্জ ও সুঁই ধ্বংস করার মেশিন না থাকায় নিরাপদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা যদি পরিচ্ছন্ন কাজে নিয়োজিত কর্মীদের সার্বিক ব্যয় বহন করতে রাজি হন তাহলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মেয়রের দাবি।