Asaduzzaman-1428561542

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ০১ নভেম্বর ২০১৫: প্রকাশক হত্যা এবং হত্যা চেষ্টার হামলার ঘটনাগুলোকে বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক আছে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি। সব দেশেই এ রকম বিচ্ছিন ঘটনা ঘটে থাকে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকাশকদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারে তদন্ত চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিগগির তাদের আটক করবে।তিনি বলেন, আনসারুল্লাহ, আইএস যারাই এ কাজ করে থাকুক না কেন; সবাই যুদ্ধাপরাধী বা জামাত শিবিরের লোক।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার কাছে বিষয়টি জানতে চান। একই সঙ্গে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।তিনি বলেন, আগেও যারা এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন, আমরা তার মধ্যে বেশির ভাগ আসামিকে শনাক্ত আমরা করতে পেরেছি। এ ছাড়া যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের খুঁজে বের করা হবে। দু-এক দিনের মধ্যে আমি এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে পারব।মন্ত্রী বলেন, কেন হঠাৎ করে জঙ্গি মাথাচাড়া দিয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। সরকার সঠিকভাবে সব মোকাবেলা করছে। এসমিয় তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি কারওরই উচিত না ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া। ব্লগারদের আমরা বারবার অনুরোধ করেছি তারা যেন সংযতভাবে লেখে।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনার স্বত্ত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মার্কেটের তৃতীয় তলার ১৩২ নম্বর দোকান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।অপরদিকে, শনিবার দুপুর সোয়া ৩টায় রাজধানীর লালমাটিয়ার সি ব্লকে প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে এর স্বত্ত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজনের উপর হামলা চালাল দুর্বৃত্তরা।একের পর এক লেখক-ব্লগার-প্রকাশক হত্যাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল দাবি করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটেনি।মুক্তমনা লেখক-ব্লগারদের হত্যার ধারাবাহিকতায় শনিবার দুই প্রকাশনা সংস্থার কার্যালয়ে ঢুকে এক প্রকাশককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়; মারাত্মক আহত হন আরেক প্রকাশকসহ তিনজন।প্রকাশকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্তে ও হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি জানাতে পারেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এর আগে গত অগাস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ধারাবাহিক দুই সরকারের আমলে প্রায় আড়াই বছরে লেখক-ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকসহ ছয়জনকে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকলে এমন ঘটনা বারবার কেন ঘটছে জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা সারা পৃথিবীব্যাপী ঘটছে। এ যুগে কোন জায়গায় কোন দেশে হয় না- সেটা আমাকে বলবেন? অস্ট্রেলিয়াতে হচ্ছে, আমেরিকায় হচ্ছে, ফ্রান্সে হচ্ছে। ধরাও পড়ছে, আমাদেরটাও ধরা পড়বে ইনশাআল্লাহ।এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ‘মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির হাত রয়েছে ঈঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, সেটাই জেএমবি, সেটাই হরকাতুল জিহাদ। সবই এক সুতোয় গাঁথা, সবই স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি।সবই পূর্বাবস্থার জামায়াত-শিবির, বর্তমানে তারা নতুন কায়দায় অন্য কিছুর মাধ্যমে ধ্বংসাত্মক প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এ বছর ২৬ ফেব্র“য়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে টিএসসি এলাকায় মুক্তমনা লেখক-ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এর দশ মাস পর শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে অভিজিতের বন্ধু ও তার বইয়ের প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্ত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয় একই কায়দায়।কাছাকাছি সময়ে লালমাটিয়ায় অভিজিতের বইয়ের আরেক প্রকাশক শুদ্ধস্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এর আগেও গত দুই বছরে অন্তত পাঁচ ব্লগারকে একই কায়দায় বেপরোয়াভাবে হত্যা করা হয়।শনিবারের দুই ঘটনায় দায় স্বীকার করা হয়েছে আনসার আল ইসলাম নামের একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বার্তা পাঠিয়ে, যারা নিজেদের আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা (একিউআইএস) দাবি করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, একটা ঘটনা ঘটেছে, সবাই কাজ করছে। কে কী উদ্দেশ্যে করেছে, আমরা ঠিকই ধরে ফেলব।পুলিশ ও গোয়েন্দারা কাজ করছে।এখনও রিপোর্ট পাইনি, পেলে আপনাদের জানাব।মন্ত্রী দাবি করেন, প্রকাশক হত্যার ঘটনাস্থল আজিজ মার্কেট শনিবার বন্ধ ছিল এবং খুনীরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আজিজ মার্কেটের সাপ্তাহিক ছুটি মঙ্গলবার। শনিবার ঘটনার সময় মার্কেট খোলাই ছিল।মন্ত্রী বলেন, লালমাটিয়াতেও একই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে সেখানে আইউইটনেস ছিল। এটার অগ্রগতি দ্রুত হবে।সাম্প্রতিক অন্য হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সন্দেহভাজনদের আমরা শনাক্ত করেছি, ধরেছি। বাকিদের ধরার চেষ্টা করছি।সম্প্রতি ঢাকায় ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লা ও রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি হত্যা করে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা।নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মালিকদের নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা (ক্লোজ সার্কিট) স্থাপনের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।