অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত

ব্যাংকিং সেক্টরের অনিয়মে অর্থমন্ত্রণালয় টায়ার্ড বলে মন্তব্য করেছেন অর্থপ্রতিমন্ত্রী মো.আব্দুল মান্নান।রোববার অর্থমন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।অর্থপ্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, ইয়েস উই টায়ার্ড। আমার বসও (অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত) বলেছেন তিনিও টায়ার্ড। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার আছে। আমরা তা করছি। বাজেট বাস্তবায়নের সঙ্গে ঘোষিত বাজেটও সংশোধিত বাজেটের মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে মূল সমস্যা বিধিবিধান ও জাতিগত মনস্তাত্বিক জটিলতা।অর্থপ্রতিমন্ত্রী বলেন, জুনে বাজেট ঘোষণার পর জুলাইয়ে যখন তা বাস্তবায়ন শুরু হয় তখন বর্ষা মৌসুম থাকায় উন্নয়ন কাজ শুরু করা যায় না। ডিসেম্বর থেকে উন্নয়ন কাজ শুরু করতে হয়। এ কারণে বাজেটের প্রথম প্রান্তিকের জের শেষ প্রান্তিকে বাস্তবায়নের হার বেড়ে যায়। এ জন্য আমাদের কিছু দুর্বলতাও আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নজরদারির বিষয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নজরদারির দরকার নেই। আমরা চাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক।রিজার্ভ চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ফিলিপাইনের মতো এতো তৎপরতা চোখে না পরলেও আমরা প্রয়োজনীয় ফলোআপ করছি। বিদেশে বিনিয়োগে ব্যবসায়ীদের শর্ত সাপেক্ষে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরত দিতে ফিলিপিন্সের ‘বিভিন্ন রকম বক্তব্যে’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেছেন, ওই যে টাকা, একবার বলে কালকে দিয়ে দিবে, আবার বলে সময় লাগবে। এটা নিয়ে আমার মনে প্রথম দিকে সন্দেহ ছিল। এখনো আমি মনে করি, দে আর প্লেয়িং।অবশ্য মান্নানের ভাষায় এটা ইচ্ছাকৃত নয়, ফিলিপিন্সের ‘সিস্টেমই এরকম।বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ফিলিপিন্সের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ফেব্র“য়ারির শুরুতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে থেকে ফিলিপিন্সি সরিয়ে নেওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের ‘উদ্ধারযোগ্য’ একটি ‘বড় অংশ’ ৩০ জুনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আশার কথা শুনিয়েছে ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটি।অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরুর অংশ হিসেবে মামলাও হয়েছে দেশটির আদালতে। ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির তদন্ত অনেক এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কী করছে এই প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমার ধারণা, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কিছু অফিসার নিউ ইয়র্ক, কলম্বো, ম্যানিলায় ঘোরাফেরা করছেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।ফিলিপিন্সের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার একটি ভুয়া এনজিওর নামেও বাংলাদেশের রিজার্ভের ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে ওই টাকা আর সেই অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, উই ওয়ান্ট দেম টু অপারেট ফ্রিলি অ্যান্ড ফেয়ারলি। এটাও স্বীকার করতে হবে, কয়েক মাস আগ পর্যন্ত তাদের সৃজনশীলতা সম্পর্কে, তাদের অভিনবত্ব সম্পর্কে আপনারাও ভুরি ভুরি প্রশংসা করেছেন।

অর্থ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি প্রায় এক মাস গোপন রাখায় সমালোচনার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন আতিউর রহমান, যিনি বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য এর আগে প্রশংসিত হচ্ছিলেন।গভর্নরের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সচিব পর্যায়েও সে সময় রদবদল আনে সরকার। মান্নান বলেন, এখন একটা ঘটনা যখন ঘটে গেছে, নট দ্যাট উই আর অবলিভিয়াস। আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। ফিলিপিন্সের মতো অতোটা নয়। আমার নিজের কিছু মতামত আছে। আমি এখন তা বলব না। ফিলিপিন্স ইজ ভেরি ওয়ান্ডারফুল রাষ্ট্র। তারা নিজেদের কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুরো বিষয়টি এখন কে দেখছেন- এ প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রতিমন্ত্রীর কাছে।তিনি বলেন, উই আর ইন ডিলেমা। ইট ইজ আ ইনস্টিটিউশন বাই ইটসেলফ, এর একটা নিজস্ব ব্যক্তিত্ব আছে। থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি।গণতন্ত্রের প্রয়োজনে অর্থনীতির শৃঙ্খলার প্রয়োজনে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে তাই আছে। আমরা চাই আমাদের এই সেন্ট্রাল ইনস্টিটিউশনটা সেইভাবে গড়ে উঠুক।

মতবিনিময় সভায় নিউজটুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, ফিন্যান্সিয়াল সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রথম আলোর উপ-সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, সমকালের প্রকাশক একে আজাদ, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খানসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদকরা অংশ নেন।