হাইকোর্ট

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও স্থাপনায় থাকা স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে শিক্ষাসচিব ও স্থানীয় সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বুধবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম রাস্তাঘাট, সড়ক ও স্থাপনা থেকে মুছে ফেলতে চেয়ে সম্পূরক এক আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ আদেশ দেন। আবেদনটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।১ মার্চ পরবর্তী আদেশের জন্য বিষয়টি তালিকায় আসবে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ কে রাশেদুল হক ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।এ কে রাশেদুল হক বলেন, ২০ জন স্বাধীনতাবিরোধীর নাম সংবলিত একটি তালিকা যুক্ত করে সম্পূরক এক আবেদন করা হলে আদালত ওই আদেশ দেন। ৬০ দিনের মধ্যে এ আদেশ পালন করে স্থানীয় সরকার সচিব ও শিক্ষা সচিবকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী বছরের ০১ মার্চ পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি শেষে ব্যারিস্টার এ কে রাশেদুল হক বলেন, এটা লজ্জাজনক যে, স্বাধীনতার এতো বছর পরে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম রয়ে গেছে। এজন্য আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম মুছে ফেলতে বা পরিবর্তন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে স্থাপনা থেকে নামকরণ প্রত্যাহারের নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি রিট করেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবির।ওই রিটের প্রেক্ষিতে একই বছরের ১৪ মে দু’টি স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম প্রত্যাহারের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

আদেশে বলা হয়, খুলনা মহানগরীর ‘খান-এ-সবুর’ সড়কের নাম প্রত্যাহার করে আগের যশোর রোড’ নামটি ব্যবহার করতে হবে এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাহআজিজুর রহমান’ মিলনায়তনের নাম প্রত্যাহার করতে হবে।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দালাল আইনে বিচার শুরুর সময় প্রকাশিত ছয়শ’ স্বাধীনতাবিরোধী অপরাধীর তালিকায় মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুরের নাম ছিল। অন্যদিকে জিয়াউর রহমানের সময় প্রধানমন্ত্রী হন শাহ আজিজুর রহমান। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার কারণে তাকে দালাল আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল।দীর্ঘ তিন বছরেও আদালতের ওই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি মর্মে গত বছরের আগস্টে আবারো আদালতে আসেন মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবির। এরপর ওই বছরের ২৫ আগস্ট হাইকোর্ট আবারও এসব স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।
এরপরও প্রত্যাহার না হওয়ায় আবারো আবেদন করেন মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবির।গত বছরের ২৯ নভেম্বর তাদের আইনজীবী জানান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ পালন করেছে। কিন্তু খুলনার মেয়রের প্রতিবেদন যথাযথ হয়নি। পরে ১৫ দিনের মধ্যে খান এ সবুরের নামে কি কি স্থাপনা আছে তার তালিকা চেয়ে পাঠান হাইকোর্ট।পরে একটি প্রতিবেদন দিয়ে স্থাপনার নাম পরিবর্তন করেছেন বলে আদালতকে জানান খুলনার মেয়র। সোমবার (০৫ ডিসেম্বর) স্বাধীনতাবিরোধী ২০ জনের নাম উল্লেখ করে সম্পূরক একটি আবেদন করার পর মঙ্গলবার ওই আদেশ দেন হাইকোর্ট।