একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শহরের খলিফা পট্টিতে জেলা বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে হামলা চালিয়েছে দূর্বৃত্তরা। এসময় বাজারের লোকজন আতস্কিত হয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি করলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মুহুর্তের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়লে রাজবাড়ী বাজারের সকল দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। দুর্বৃত্তদের ইটের নিক্ষেপে এক ব্যবসায়ী ও পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক আহত হন।

মঙ্গলবার ১১ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজবাড়ী খলিফাপট্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সমাবেশে আনা চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে দূর্বৃত্তরা। বিএনপি দলীয় সুত্রে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষিত এবং জেলা প্রশাসন অনুমোদন নেওয়া হয় রাজবাড়ী শহরের খলিফা পট্টিতে নির্বাচনী সমাবেশের জন্য। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগের্ই একদল লোক সমাবেশ স্থলে প্রবেশ করে। এসময় দূর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাংচুর করে করে চলে যায়। পরে আবার সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা জমায়েত হতে থাকলে সেখানে পুনরায় আবারও দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় বিএনপির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, বাজারের খলিফা পট্টিতে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা রিটার্নিং অফিসারের অনুমতিতে আমার নির্বাচনী সভা ছিল। সে উপলক্ষে চেয়ার টেবিল সাজানোর প্রস্তুতিকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে সেখানে হামলা চালিয়ে অর্ধশতাধিক চেয়ার ভাংচুর করাসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের ইটপাটকেলের নিক্ষেপে ১০/১৫জন বিএনপির কর্মী আহত হয়। এসময় আমি সেখানে উপস্থিত হলে তারা আমার ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে দলীয় কর্মীরা আমাকে সেখান থেকে রক্ষা করে অন্যত্র নিয়ে জায়গা নিয়ে যায়। এ ঘটনার সঠিক বিচারের দাবি জানান তিনি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এটি তাদের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলের কারনে ঘটেছে। নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে আ.লীগের উপর দোষ চাপানো-এটা বিএনপির রাজনীতির খুবপরিচিত সংস্কৃতি, যা দেশবাসী ভাল করেই জানে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল করিম জানান, বিএনপি এখানে মঞ্চ করে সভা করবে সেটা আমাদের জানা ছিল না। যখন তারা সভার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন কিছু উচ্ছঙ্খৃল লোকজন এসে হামলা চালায় বলে আমরা জানতে পারি। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।