wifi-[]দৈনিক বার্তা: বাংলাদেশের আকাশসীমা অতিক্রমকালে উড়োজাহাজের ভেতর যাত্রীদের ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে টেলিযোগাযোগ সেবাদানের অনুমতি চেয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অনএয়ার। উড়োজাহাজ ভূমি থেকে কমপক্ষে ৩ হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থানকালে প্রতিষ্ঠানটিকে এ সেবা চালুর অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। স্যাটেলাইট সংযোগ, আর্থ স্টেশন ও ইন্টারনেট বা ফোনের মাধ্যমে এ সেবা দেয়া যাবে।  স্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিলিংয়ের মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কে কোন ধরনের বিঘ্ন না ঘটানো এবং উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় সেবাটি বন্ধ রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে। আর এ সেবার জন্য সরকারকে বার্ষিক ২ হাজার ডলার চার্জ দিতে হবে প্রতিষ্ঠানটির। 

সেবাটি চালু রয়েছে এমন অধিকাংশ দেশেই কোন ধরনের ফি ছাড়াই সেবা দিচ্ছে অনএয়ার। তবে কয়েকটি দেশে সেবাদানের জন্য নির্দিষ্ট বার্ষিক ফি দিতে হয় তাদের। এর মধ্যে কাতার ২৫০ ডলার, ইরান ৬০০, জর্ডান ১ হাজার ৫০০, দুবাইয়ে ২ হাজার ৫০০ ও ইরাক এবং সিরিয়ায় ৩ হাজার ডলার দিতে হয় প্রতিষ্ঠানটিকে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের সেবা চালু রয়েছে।  দেশের আকাশসীমায় অবস্থানকালে উড়োজাহাজে এ সেবা চালু হলে রাজস্ব আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে যাত্রীরাও উপকৃত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের আকাশসীমায় জিএসএম (গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন্স) প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে আবেদন করে অনএয়ার নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।  নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ছাড়পত্র প্রাপ্তি ও বেশ কিছু শর্তসাপেক্ষে সেবাটির বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিরাপত্তা ছাড়পত্র না দেয়ায় এখনো এ সেবা চালু হয়নি।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অনএয়ারের এ সেবার মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে কিনা সে ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুটি গোয়েন্দা সংস্থার মতামত চায় বিটিআরসি। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেয়া যেতে পারে বলে কমিশনকে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা দুটি।  তবে আপত্তি জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চলতি বছর জানুয়ারিতে সেবাটির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবারো চিঠি দেয় কমিশন। শিগগিরই ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে জানালেও তা দেয়নি মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে আরো একটি চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি। জানা গেছে, এ সেবা দিতে উড়োজাহাজের ভেতরে স্থাপিত সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষুদ্র বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) ব্যবহার করা হয়। এটি স্যাটেলাইট লিংক সংযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সেলফোন অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে।  এক্ষেত্রে স্থানীয় মোবাইল ফোন অপারেটরের বিলিংয়ের মাধ্যমে এ সেবার চার্জ নির্ধারিত হয়। খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে এলে উড়োজাহাজের ভেতরের এ সেবা বন্ধ থাকে। আর তা না হলে ভূমিতে থাকা জিএসএম নেটওয়ার্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেবাদানে বিঘ্ন ঘটে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এসআইটিএর (সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল ডি টেলিকমিউনিকেশন্স অ্যারোনটিক্স) সহযোগী প্রতিষ্ঠান অনএয়ার মূলত এয়ারলাইন্স ও ক্রুজ শিপের যাত্রীদের সেলফোন ও ল্যাপটপের মাধ্যমে ফোনকল, এসএমএস, ই-মেইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে থাকে।  ১৬টি এয়ারলাইন্সসহ অনএয়ারের সেবাগ্রহীতার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৫০টিরও বেশি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদি এয়ারলাইন্স, ওমান এয়ার, ইজিপ্ট এয়ার, রয়্যাল জর্ডানিয়ান, লিবিয়ান আরব এয়ারলাইন্স ও হংকং এয়ারলাইন্সসহ আরো বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন্সে এ সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

BTRC