আগামী ১ জুন থেকে দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর হতে যাওয়া গ্যাসের নতুন মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার রুলসহ এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে দেওয়া ওই গণবিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিবকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবা দিতে হবে। ২৩ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দুই ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী প্রথম দফায় আগামী ১ মার্চ ও দ্বিতীয় দফায় ১ জুন থেকে দাম বাড়ার কথা।

বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী আগামী মাস থেকে আবাসিক গ্রাহকদের এক চুলার জন্য ৭৫০ (বর্তমানে ৬০০) ও দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা (বর্তমানে ৬৫০) বিল দিতে হবে। আর আগামী জুন মাস থেকে এক চুলার জন্য ৯০০ ও দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা বিল দিতে হবে। যেসব আবাসিক গ্রাহকের মিটার আছে, আগামী মাস থেকে তাঁদের ক্ষেত্রে প্রতি ঘনমিটার ৯ টাকা ১০ পয়সা এবং জুন মাস থেকে ১১ টাকা ২০ পয়সা ধার্য করা হয়েছে। আদালত রুলে বিইআরসির নেওয়া ওই সিদ্ধান্ত গ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণের বিষয়টি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। বিইআরসি, বিইআরসির চেয়ারম্যান ও সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।গ্যাসের নতুন মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন সোমবার রিটটি করেন। আজ বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম সাইফুল আলম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।

ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাই কোর্ট বেঞ্চে মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।ক্যাবের পক্ষে প্রকৌশলী মোবাশ্বের হোসেন সোমবার হাই কোর্টে রিট আবেদনটি করেন। সেখানে গ্যাসের দাম বাড়ানো সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতার উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল আলম।গত ২৩ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গৃহস্থালিতে ও গাড়িতে জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়িয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়।সেখানে বলা হয়, আবাসিক গ্রাহকদের আগামী ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা হবে।পাশাপাশি যানবাহনে জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহৃত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) দাম ১ মার্চ থেকে প্রতি ঘনমিটারে ৩৮ টাকা এবং ১ জুন থেকে ৪০ টাকা হবে।

পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার, শিল্প ও বাণিজ্যক খাতেও গ্যাসের দাম দুই ধাপে ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয় ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে।ক্যাবের আইনজীবী সাইফুল সোমবার বলেন, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এক নোটিসে দুইবার দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে, যেটা অবৈধ।তাছাড়া এনার্জি রেগুলেটারি কমিশন আইন ২০০৪ অনুযায়ী গণশুনানির পর ৯০ দিনের মধ্যে দাম ঘোষণা করার কথা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যেটা করলেন, সেটা কোনো ব্যবস্থাপনার মধ্যে পড়ে না।এছাড়া বিইআরসি ট্যাক্স-ভ্যাট যুক্ত করে জনগণের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়েই তা করেছে বলে দাবি এই আইনজীবীর।এসব বিষয় উল্লেখ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব চেয়ে রোববার বিইআরসি চেয়ারম্যানকে আইনি নোটিস পাঠানো হলেও তা জবাব না পাওয়ায় আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভোক্তা অধিকারকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যবসায়ী সংগঠন গ্যাসের দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বাম দলগুলো মঙ্গলবার ঢাকায় আধাবেলা হরতালও পালন করেছে।