Rapid-Action-Battalion
দৈনিকবার্তা-ফরিদপুর,১৯ মার্চ,২০১৫:র্যাব পরিচয়ে দুই ভাইকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ১২৭ দিন পর বন্দিদশা থেকে বাড়ি ফিরল ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের সোহেল মাতুব্বর (২২) ও তার ছোট ভাই জুয়েল মাতুব্বর (১৯)৷ গত রবিবার (১৫ মার্চ) বন্দিঅবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে পরদিন সোমবার তারা বাড়ি ফিরে৷ এরা দুজন ঐ গ্রামের আমজেদ মাতুব্বরের ছেলে৷ সোহেল মাতুব্বর বলেন, আমাদেরকে কারা ধরে নিয়ে গিয়েছিল জানি না৷ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ ৪ মাস একটি কক্ষে আমাদেরকে বন্দি করে রাখে৷ তবে ঠিকমত আমাদেরকে খাবার দিয়েছে৷

কোন রকম শারীরিক নির্যাতন করেনি৷ নেওয়ার দিন গাড়িতে উঠিয়ে কালো কাপড় দিয়ে আমাদের চোখ বাধা হয়েছিল৷ গত রবিবার (১৫ মার্চ) রাতে আমাদেরকে কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেধে গাড়িতে উঠানোর পর আনুমানিক আধাঘন্টা গাড়ি চলার পর আমাদের একটি নির্জন জায়গায় ফেলে রেখে যায়৷ এসময় হাতে দুইশত টাকা ধরিয়ে দিয়ে যায়৷ এরপর ঐ এলাকার লোকজন আমাদেরকে উদ্ধার করে৷ তারা জায়গাটি ঢাকার উত্তরা বলে জানায়৷ এর পর বাড়িতে ফোন করলে উত্তরার আনিসপুর নামক এলাকা থেকে আমার এক চাচাতো ভাই আমাদেরকে তার বাসায় নিয়ে যায়৷ আজিমনগর ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের অধিবাসী ও আজিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ইউনিটের সদস্য নয়ন হাওলাদার বলেন, ওরা দুই ভাই ওদের ধরে নেওয়া ও আটকে রাখা সম্পর্কে তেমন কিছু বলছে না৷ ওদের শরীর স্বাস্থ্য আগের চেয়ে খারপ হয়ে গেছে৷

ওদের বাবা আমজেদ মাতুব্বর বলেন, ছোট ছেলে জুয়েল এবছর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিত৷ কিন্তু ছেলেটির পরীক্ষা দেওয়া হলনা৷ আমরা মনে করেছিলাম ওরা হয়তো বেচে নেই৷ ওদের ফিরে পেয়েছি এটাই আমার বড় পাওয়া৷ ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, নিখোজের পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ভাঙ্গা থানায় জিডি করেছিল৷ ফিরে আসার পরে আমাদেরকে খবরটি জানিয়েছে৷ পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত বছর ৮ নভেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে র্যাবের পোশাক পরিহিত অস্ত্রধারী ১৮/২০ জন তারাইল গ্রামের আমজেদ মাতুব্বরের বাড়িতে এসে তার দুই ছেলে সোহেল মাতুব্বর (২৪) ও জুয়েল মাতুব্বর (২০) কে তুলে মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যায়৷ এর পর থেকে ঐ দুই যুবকের সন্ধান পাওয়া যায়নি৷