21_august_granade_aatck-600x286

দৈনিকবার্তা-ঢাকা, ২১ আগস্ট: এগার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও দেহে স্প্লিন্টার বহন করছেন ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত অনেকে। ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট বিকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শেখ হাসিনার জনসভা শেষে সন্ত্রাসবিরোধী মিছিল হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এক সন্ত্রাসী হামলায় রক্তাক্ত হয় সমাবেশস্থল। সেই হামলায় কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন।

গ্রেনেডের স্প্লিন্টারবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হন অনেকে। বিভিন্নভাবে আহত হন বহু ব্যক্তি, যাদের অনেকেরই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা হয়নি।আজাদ ছিল বেশ আমোদপ্রিয়। এ জন্য আমাদের বিয়েটা হয়েছিল ১৯৯৫ সালের থার্টি ফার্স্ট নাইটে।এক মেয়ে ও এক ছেলে এল সংসারে। আনন্দেই দিন কাটছিল। কিন্তু এক বিকেলেই সব অন্ধকার হয়ে গেল। এখন আছে কেবল স্মৃতি, আজাদের ক্ষতবিক্ষত দেহের ছবি আর রক্তমাখা জামা।কথাগুলো মাকসুদা আজাদের। কান্না থামিয়ে দিল তাঁর কথা। পাশে বসা শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম, মেয়ে মাহফুজা আজাদ ও ছেলে আল আমিন আজাদও কান্না চেপে রাখতে পারল না।

স্মৃতি মনে করে তাঁর জন্য তিন প্রজন্মের অঝোর কান্না।আজাদের পুরো নাম আবুল কালাম আজাদ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে গ্রেনেড হামলায় নিহত ২২ জনের একজন তৎকালীন ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নিহত অন্যদের মতো তাঁর স্বজনেরাও প্রিয় মানুষকে হারানোর শোক-ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছেন, আঁকড়ে আছেন স্মৃতি। আর ওই হামলায় আহত অনেক নেতা-কর্মীর এখনো সঙ্গী দুঃসহ যন্ত্রণা। কারও পা অচল, কেউ হারিয়েছেন চোখ, কেউ শ্রবণশক্তি। ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও আহত কয়েকজন বলেছেন, ওই গ্রেনেড হামলায় আহত ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগ থেকে চিকিৎসা খরচসহ এককালীন ও মাসিক ভাতা দেওয়া ছাড়াও চিকিৎসা করানো হয়। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের ও আহত ব্যক্তিদের ১০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র দেন। এ থেকে মাসে ১০ হাজার ৭০০ টাকা আসে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে দেওয়া হয় মাসে পাঁচ হাজার টাকা।

নিহত কয়েকজনের স্বজন বললেন, সরকার একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিলে সবচেয়ে উপকার হয়। সেই দিনের কথা: আজাদের মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকে বালুঘাটের বারানটেকে। মিরপুর উড়ালসড়ক দিয়ে মানিকদী গিয়ে ভাঙা সড়ক ধরে এগোলে বালুঘাট বাজার, সেখান থেকে বেশ কিছুটা গেলে বারানটেকে আজাদদের বাড়ি।

গত বুধবার ওই বাড়িতে গিয়ে প্রথমেই চোখে পড়ে আজাদের মা বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম ছেলের বাঁধানো একটা ছবিতে পরম মমতায় হাত বোলাচ্ছেন। ছেলের কথা জানতে চাইলে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন। একপর্যায়ে বলেন, ওই দিন যে জামাকাপড় পরে আজাদ সমাবেশে গিয়েছিল, সেগুলো যতœ করে রেখেছি। এগুলোতে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র। স্প্লিন্টারগুলো ঢোকার সময় কত কষ্টই না পেয়েছে আমার সোনার চান।স্বামীর ভিটায় একতলা বাড়ির একাংশে তিনি আজাদের বিধবা স্ত্রী মাকসুদা ও দুই সন্তান মাহফুজা ও আল আমিনকে নিয়ে থাকেন। আনোয়ারার আরও তিন ছেলে ও দুই মেয়ে আছে।

বাবাকে হারানোর সময় মাহফুজার বয়স ছিল পাঁচ বছর, আল আমিনের দুই বছর। মাহফুজা এখন বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০০৪ সালের ওই দিনটি সম্পর্কে সে বলে, আমি তখন মানিকদী গ্রিন হ্যাভেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলে নার্সারিতে পড়ি। স্কুল শেষে বেরিয়ে দেখি, বাবা ছোট ভাইকে কোলে নিয়ে গেটে অপেক্ষা করছেন। বাসায় আসার পথে বাবা আমাকে একটা পুতুল কিনে দেন।

এটাই বাবার দেওয়া শেষ উপহার। বলতে বলতে ফুঁপিয়ে ওঠে মাহফুজা।মাকসুদা বলেন, সেদিন সন্ধ্যার দিকে টিভিতে দেখি আওয়ামী লীগের সমাবেশে বোমা হামলা হয়েছে। তখনই মনটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে। আজাদ তো আওয়ামী লীগের সমাবেশ মিস করে না। শাশুড়িকে বললাম পাড়ায় খোঁজ নেন। অনেকে জানাল, আজাদ সমাবেশে গেছেন। সর্বনাশ হয়ে গেছে ভেবে আমি প্রায় অজ্ঞান। এরপর তো ঘটেই গেল। গ্রেনেড হামলার পর আজাদ হতাহত অসংখ্য মানুষের মধ্যে উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ভেবে তাঁকে মর্গে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় নড়ে ওঠেন।

তখন ওই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান স্বজনেরা। পরে তাঁকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালে নেওয়া হয়। চোখ খোলা থাকলেও ছিলেন নির্বাক, অচেতন। ওই অবস্থায় বেঁচে ছিলেন ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। স্বজনেরা গ্রেনেডে ক্ষতবিক্ষত দেহটা দেখেছেন, কিন্তু কথা বলতে পারেননি।আজাদের স্ত্রী বলেন, ‘দল (আওয়ামী লীগ) ও শেখ হাসিনা আর্থিক সহায়তা করেছেন। অবস্থার সামান্য উন্নতি হলে আজাদকে উন্নত চিকিৎসা করানোর প্রতিম্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উন্নতি হয়নি। আসলে আমার ভাগ্যই খারাপ। সবার সহানুভূতিই পাচ্ছি। কিন্তু স্বামীকে তো পাচ্ছি না। সন্তানেরা বাবা ডাকতে পারছে না।

বিয়েবার্ষিকী করা হয়নি আইরিনের: মোস্তাক আহমেদ (সেন্টু) ও আইরিন সুলতানার বিয়েবার্ষিকী ২২ আগস্ট। ঘরোয়া হলেও প্রতিবছরই দিনটি পালন করতেন এই দম্পতি। ২০০৪ সালেও কিছু প্রস্তুতি ছিল তাঁদের। কিন্তু ২১ আগস্টের বিকেলেই সব শেষ হয়ে যায়। গ্রেনেড কেড়ে নেয় স্বামীকে।আইরিন বলেন, সাত বছরের সংসার। রাত ১২টার পর বিয়েবার্ষিকী। ঘটনার দিন বিকেলেও আমাকে বলে গেল, তুমি প্রস্তুতি নিয়ে রেখো।

আমি আগে আগেই বাসায় আসব। কিন্তু তাঁর আর আসা হলো না। বিয়েবার্ষিকী আর স্বামীর মৃত্যুবার্ষিকী এখন একাকার। তিনি বললেন, মোস্তাক আহমেদ ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করতেন। ২০০৪ সালের ১৫ আগস্ট গ্রামের বাড়ি বরিশালে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ২০ আগস্ট ঢাকায় ফিরেছিলেন। ২১ আগস্ট দুপুরের পরই বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের সমাবেশে যোগ দেন।আইরিন বলেন, গ্রেনেড হামলা হওয়ার পর তিনি স্বামীর খোঁজে প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে যান। সেখানে না পেয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করেন।

এরপর খবর পান, পঙ্গু হাসপাতালে আছেন। কিন্তু মারা গেছেন তা জানতেন না। রাত নয়টায় পঙ্গু হাসপাতালে গিয়ে জেনেই জ্ঞান হারান। গ্রেনেড হামলায় বাঁ চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় দৌলতুন্নাহারের মোস্তাক ও আইরিন দম্পতির একমাত্র সন্তান আফসানা আহমেদ। চার বছর বয়সেই বাবাকে হারানো আফসানা এখন আইডিয়াল স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।আইরিন আহমেদ বলেন, মেয়েটা এখন সবই বোঝে। তবে সেদিনের স্মৃতি মনে করতে পারে না। আমরাও তাকে মনে করাই না। কারণ, আমাদের মনে যে ব্যথা, সেটা তার মধ্যে সংক্রমিত হোক তা চাই না। সেই যন্ত্রণার সঙ্গে দলের সহায়তা না পাওয়ায় ক্ষোভও রয়েছে কারও কারও মনে। তবে সেই ক্ষোভের পকাশ নেই, কারণ ‘নেত্রী বেঁচে আছেন, সেটাই সান্ত্বনা।

গ্রেনেড হামলার সময় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের পাশেই ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. আলী আজিম।পিঠে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন অনেক দিন। তখনকার যন্ত্রণা এখনও ভোগায় তাকে।তবে এত বছর পর মনে হয়, দল থেকে যতটুকু সমবেদনা পাওয়ার কথা ছিল তা পাইনি। এখন অনেকেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ পাচ্ছেন। আমার খোঁজ কেউ আর রাখে না।এই হতাশার সঙ্গেই আজিমের সান্ত্বনা- তাতে আক্ষেপ নেই। নেত্রী (শেখ হাসিনা) ভালো আছেন।

তিনি ভালো থাকলে বাংলাদেশও ভালো থাকবে।রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মমতাজ আক্তারের বাম পায়ে অনেকগুলো স্প্লিন্টার বিঁধেছিল। সেই যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়ান তিনি।লাঠিতে ভর করে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন মমতাজ। তিনি বলেন, দল থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। নেত্রী বেঁচে আছেন, ভালো আছেন, এটাই আমার সান্ত্বনা।আজিম ও মমতাজের বক্তব্যের বিপরীতে দল থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবা পারভীন।নেত্রীর খরচেই যাবতীয় চিকিৎসা করানো হয়েছিল আমার। আমি শেখ হাসিনার জন্যই বেঁচে আছি। তিনি বেঁচে আছেন বলেই আমরা এখনও বেঁচে আছি।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনায় মাহবুবা বলেন,গ্রেনেড হামলার সময় মাটিতে শুয়ে পড়েছিলাম। অসংখ্য মানুষ আমার উপর দিয়ে হুড়োহুড়ি করে দৌড়ে গিয়েছিল। আমি গ্রেনেডবিদ্ধ অবস্থায় প্রায় অচেতন হয়ে পড়ে ছিলাম।ডান হাত কনুই থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। বাম হাঁটুর নিচে বিঁধেছিল শতাধিক স্প্লিন্টার।শরীরে বিদ্ধ স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা এখনও আছে মাহবুবার। বারবার চিকিৎসা করানোর পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন না।যখন ব্যথায় ছটফট করি, বিছানা ছেড়ে উঠতে পারি না, তখন মনে হয়, ওই সময় আইভি আপার সঙ্গে মরে গেলেই তো ভালো হত।

সেদিন আইভি রহমানের কাছেই ছিলেন এখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নাসিমা ফেরদৌস।আইভি আপা আমার ডানে ছিলেন। আমরা নেত্রীর কাছাকাছি ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে বোমা ফাটলে আমরা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। কী যে করতে হবে চিন্তা করার আগেই মাটিতে পড়ে গিয়েছিলাম।লাশ ভেবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল নাসিমাকে। পথে চিৎকার করলে সবাই বোঝেন, তিনি বেঁচে আছেন।শরীরে আর মনে এখনও আঘাতের অনেক চিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছি। ওই দিনের কথা তো ভোলার না।

আমি তো ভাবিনি বেঁচে থাকতে পারব। যদিও এখনও কয়েক মাস পরপরই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।ছয় মাস আগে নাসিমার বাম পায়ে লাগানো রড খোলা হয়েছে, ডান পায়ের বিভিন্ন জায়গার ক্ষত রয়েছে এখনও। কোনো মানুষ বা লাঠির উপর নির্ভর না করে চলতে পারেন না এই আওয়ামী লীগ নেত্রী। শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, নেত্রী বেঁচে ফিরেছেন বলে আমরা এখনও বাঁচার স্বপ্ন দেখি। তার কিছু হয়ে গেলে আমাদের দেখার কেউ থাকত না, কেউ খবরও নিত না।গ্রেনেড হামলার সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ট্রাকের পাশেই ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. নাজিমউদ্দিন।বিকট শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরণের সময়ে আমি বুকের নিচে দুই হাত দিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছিলাম। প্রচুর মানুষ আমার পিঠে পা দিয়ে গেছে। মানুষের চিৎকার আর আহাজারিতে কী করব, ভেবে পাচ্ছিলাম না। কোমরের নিচের অংশে এখন স্প্লিন্টার বয়ে বেড়াচ্ছেন নাজিম। ভারতেও গিয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য।তারপরও স্বাভাবিক জীবনে আজও ফিরতে পারিনি, বলেন তিনি।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে চালানো ওই গ্রেনেড হামলার লক্ষ্য যে ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা, তা পরে তদন্তে উঠে এসেছে।এই মামলাটি এখনও বিচারাধীন। বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মুজাহিদ, লুৎফুজ্জামান বাবর, জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ৫০ জন। সেদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের মাঝখানে একটি ট্রাক এনে মঞ্চ তৈরি করা হয়।

মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়। বিকাল ৫টার কিছুক্ষণ আগে শেখ হাসিনা এসে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। কিছু গুলির আওয়াজও শোনা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী আর দলীয় নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে তার বুলেটপ্র“ফ গাড়িতে তুলে দেন।

সেদিনের হামলায় নিহতরা হলেন- আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সেন্টু, শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স কর্পোরাল মাহবুবুর রশীদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম (তিনি আদা চাচা নামে বেশি পরিচিত ছিলেন), মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সুফিয়া বেগম, মাদারীপুরের যুবলীগ নেতা লিটন মুন্সী ওরফে লিটু, নারায়ণগঞ্জের রতন সিকদার, মহানগর রিকশা শ্রমিক লীগ নেতা মো. হানিফ, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসিনা মমতাজ রীনা, সরকারি কবি নজরুল ইসলাম কলেজের ছাত্র মামুন মৃধা, ঢাকা মহানগর যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেন, আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগকর্মী আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারী, যুবলীগ নেতা আতিক সরকার, শ্রমিক লীগকর্মী নাসির উদ্দিন সর্দার, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেত্রী রেজিয়া বেগম, আবুল কাসেম, জাহেদ আলী, মমিন আলী, যুবলীগ নেতা শামসুদ্দিন আবুল কালাম আজাদ ও ইছহাক মিয়া।